দ্রুত গতিতে মেরামত ও সংস্কার শেষ হলো প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের সার্বিক দিক নির্দেশনা ও তদারকির ফলে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দ্রুত সময়ে মেরামত ও সংস্কার করে আরেক রেকর্ড স্থাপন করলো গণপূর্ত অধিদপ্তর
এম এ মান্নান: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট (সোমবার) দেশত্যাগের পর জাতীয় সংসদ ভবন, গণভবনসহ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে স্থাপনাগুলো কাজের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। ভবনগুলো দ্রুত মেরামত ও সংস্কার করে কাজের উপযোগী করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আক্তারকে প্রধান ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে সংস্কারমূলক কাজ পরিচালনা করা হয়। সংস্কার কাজ করার সময় সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল, কম্পিউটার, সিকিউরিটি ও রংয়ের সম্পূর্ণ কাজ করতে হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাদের বসার কক্ষও ঠিকঠাক করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেড জোন, সচিব, পরিচালক, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অফিসসহ শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্ষতির পরিমাণ অন্তত শত কোটি টাকার ওপরে। কিছু কিছু ফার্নিচার সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা গেলেও অনেক কিছুই ফেলে দিতে হয়েছে। যেহেতু পরবর্তী সরকার প্রধান এই অফিসেই বসবেন তাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সম্পূর্ণ সংস্কার করার মতামত দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় হিসাবে অন্য কোনো ভবন সাজাতে গেলেও অনেক খরচের প্রয়োজন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, পরবর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় হিসাবে অন্য ভবন প্রস্তুত করলে পরবর্তী সরকার তা ব্যবহার নাও করতে পারেন। তাই অপচয় ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে ঢাকা শহরের তেজগাঁওর পুরোনো জাতীয় সংসদ ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৯১ সালের আগ পর্যন্ত এটি রাষ্ট্রপতির সচিবালয় ছিল।
প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের সার্বিক দিক নির্দেশনা ও তদারকির ফলে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দ্রুত সময়ে মেরামত ও সংস্কার করে আরেক রেকর্ড স্থাপন করলো গণপূর্ত অধিদপ্তর। এখন থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হবে এটি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের সিভিল সংস্ক্রান্ত কাজ বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২। এ বিভাগের দায়িত্বে আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সানাউল্লাহ। এবং ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল সংস্ক্রান্ত যেমন-সিসি টিভি,ফ্লাড লাইট, সাউন্ড সিস্টেম, লাইট ফিটিং ও ফায়ার সংস্ক্রান্ত কাজ বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা গনপূর্ত ইএম বিভাগ-১।
এ বিভাগের দায়িত্বে আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও সচিবের নির্দেশনায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার কার্যালয়ের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করে কাজের উপযোগী করে প্রস্তুত রেখেছি। ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার রেড জোনের কাজ শেষ, কেবিনেট কক্ষের কাজ, শাপলা হলের কাজ এবং প্রশাসন ব্লকের কাজ এবং সভাকক্ষের কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কিছু কাজ গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যেই শেষ হবে। আগামী রবিবার থেকে নতুন উপদেষ্টা পরিষদ এ অফিসে কাজ শুরু করতে পারবেন।টানা ১৫ দিন সংস্কার কাজ করে প্রস্তুত করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়। ইতোমধ্যে আলোচিত এ কার্যালয়ের বাইরে-ভেতরে নামফলকও পরিবর্তন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে ঢাকা শহরের তেজগাঁওর পুরোনো জাতীয় সংসদ ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সদ্য বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী সাধারণত এখানে প্রতিদিন সরকারি কার্যাবলী সম্পাদন করতেন। এখানেই মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সচিবালয়েও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দপ্তর রয়েছে। সেখানেও বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে অফিস করতেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকও হয়েছে। ১৯৯১ সালের আগ পর্যন্ত এটি রাষ্ট্রপতির সচিবালয় ছিল। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটেছিল প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যালয়, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। এই কার্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির সংস্কার করতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর জাতীয় উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য সকল ধরনের ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ করে থাকে। এর কার্যক্রম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত।
সরকারি ভবন এবং স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। অপরদিকে নির্মাণ সামগ্রীর গুনগত মানের স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা, কেপিআইসহ অন্যান্য সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার কাঠামো নকশা এবং ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল নকশা প্রস্তুতকরণ, বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহের পুনঃনির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কার, পাবলিক উদ্যানসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন, সরকারি অফিস ও বাসভবনের ভাড়া নির্ধারণ, কর বহির্ভূত রাজস্ব আদায়, সিডিউল অব রেটস প্রণয়নের কাজও করে থাকে গণপূর্ত অধিদপ্তর।