ধর্ষণের শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ রেখে এ সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে

ধর্ষণের শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ রেখে এ সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবনের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে চলতি সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দফতর বিষয়ক সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধিত হচ্ছে। আইনের ৯ (১) ধারায় যেখানে ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন ছিল, সেখানে মৃত্যুদণ্ড যুক্ত করা হচ্ছে।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পোর্টালের সাথে আলাপকালে বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য জানান।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এখন সংসদ অধিবেশন নেই। যে কারণে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী আগামী সোমবার রাষ্ট্রপতি বরাবর বিল আকারে সামারি পাঠাবেন। এর আগেই সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। পরে তা প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের বলে অধ্যাদেশ জারি করবেন এবং তা আইনে রূপ নেবে। এরপর সংসদ অধিবেশন বসলেই প্রথম বৈঠকে এই অধ্যাদেশ-কে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ২০১১ সালে এই সরকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা গ্রহণ করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০, এই বিশেষ আইনটিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা। আগে ধর্ষণের বিচার হতো ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা মোতাবেক। এই বিধি ১৮৬০ সালে করা।’

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, আজ নারীর যে ক্ষমতায়ন দেখছেন, তা রীতিমতো বিস্ময়। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার, মেজর-জেনারেল, বিচারপতি, বৈমানিক, মন্ত্রিত্বসহ সর্বত্রই নারীর অবাধ বিচরণ। এর আগে নারী-পুরুষের সমতার কথাটি সংবিধানেই সীমাবদ্ধ ছিল। শেখ হাসিনা যথাযথ পলিসি গ্রহণ করে আজ নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিশ্বমহলও প্রশংসা করছে।

তিনি আরো বলেন, ধর্ষিত নারীকে বিচার চাইতে হলে নিজেকে ভালো চরিত্রের প্রমাণ দিতে হয়। এর মধ্য দিয়ে একজন নারীকে হেয়প্রতিপন্নের অভিযোগ রয়েছে বহুদিনের। এভিডেন্স অ্যাক্ট-১৮৭২ ব্রিটিশদের করা। সরকার এই আইনকেও সংশোধনের উদ্যোগ নেবে। মনে রাখতে হবে, নারীবান্ধব সরকার প্রধান শেখ হাসিনা যা করছেন, তা অন্য কেউ করতে পারেনি।


বিআলো/ইসরাত