নেত্রকোনায় নৌকাডুবিতে প্রাণ গেলো একই পরিবারের ৮ জনের

নেত্রকোনায় নৌকাডুবিতে প্রাণ গেলো একই পরিবারের ৮ জনের
নেত্রকোনায় নৌকাডুবিতে প্রাণ গেলো একই পরিবারের ৮ জনের

হাবিবুর রহমান,নেত্রকোনা প্রতিনিধি: বুধবার (৫ আগস্ট) নেত্রকোনার মদনে নৌকাডুবির (ইঞ্জিন চালিত) ঘটনায় নিহত ১৭ জনের প্রত্যেকেই ময়মনসিংহের একই মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক। এর মধ্যে ৮ জনই একই পরিবারের। স্বজনহারাদের শোকের মাতম চলছে ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চল কোনাপাড়া ও চর খরিচা গ্রামে।

নেত্রকোনার মদনে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনায় স্বজনহারাদের শোকের মাতম চলছে ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চল কোনাপাড়া ও চর খরিচা গ্রামে। বুধবার (৫ আগষ্ট) নেত্রকোনার মদনের হাওরে ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডিতে কোনাপাড়া গ্রামের একই পরিবারের আট সদস্যসহ প্রাণ হারিয়েছেন দুই গ্রামের ১৭ জন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার তেলিখালি মাদ্রাসা পরিচালক মাওলানা শফিকুর রহমানের আমন্ত্রণে আনন্দ ভ্রমণে গিয়ে ময়মনসিংহ সদরের কোনাপাড়া ও চরখরিচা গ্রামের মাদ্রাসার মুহতামিম ও শিক্ষকরা এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুপুরে তাদের প্রাণহানির খবর কোনাপাড়া ও চরখরিচায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় স্বজনহারাদের শোকের মাতম। স্বজন ও এলাকাবাসী কিছুতেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।

ময়মনসিংহ সদরের কোনাপাড়া গ্রামের মারকাজুল সুন্নাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুর রহমান, তার দুই পুত্র আসিফ (১৫) ও মাহবুব (১২), ভাগ্নে রেজাউল (১৫), ভাতিজা জোবায়ের (২০) ও জোনায়েদ (১৭), ভাতিজি লুবনা (১৩) ও জুলফা (৭) সহ আট সদস্য নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান। পুরো বাড়িজুড়ে এখন কেবলই আহাজারি।

মতিউর রহমান জানান, চাচা মাহফুজুর রহমান পরিবারের ৯জন সদস্যকে নিয়ে হাওরের পানি দেখার জন্য আনন্দ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে আটজনই মারা গেছেন। পাশের বাড়ির মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আজাহার আলী ও তার ব্যবসায়ী ভাতিজা জাহিদও এই নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। মাওলানা আজাহারের চার মাস বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে। সেই শিশুর কী হবে  এ ভাবনায় বুকফাটা আর্তনাদ করছেন তার স্বজনরা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ জানান, বুধবার সকাল ৭টার দিকে কোনাপাড়া ও চরখরিচা থেকে মাদ্রাসা শিক্ষক ও তাদের পরিবারের ৩৮ জন সদস্য নেত্রকোনার মদরের হাওরে আনন্দ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুপুরের আগেই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। এই অকাল মৃত্যু এলাকার কেউ মেনে নিতে পারছে না। নিহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়ার কথাও জানান চেয়ারম্যান।

এদিকে বুধবার রাতেই নিহতদের লাশ ময়মনসিংহে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।

বিআলো/শিলি