নারায়ণগঞ্জে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির ওরশ উপলক্ষে ধর্মীয় আয়োজন
অলীরা নিজের জীবন উৎসর্গ করে আল্লাহপাকের হেদায়েতের বাণী প্রচার করাকেই লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন — কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ
নিজস্ব প্রতিবেদক: আতায়ে রাসূল, সুলতানুল হিন্দ, গরিবে নেওয়াজ, খাজায়ে খাজেগান হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি আজমেরী সানজারী (রহ.)-এর ৩৯তম বাৎসরিক ওরশ মোবারক উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে ওয়াজ, দোয়া মাহফিল ও নেওয়াজ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১ নম্বর রেলগেইট এলাকায় নারায়ণগঞ্জ অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক কার্যালয়ের সামনে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ওরশ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আমানুল্লাহ আমান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস সিকদারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ অটোরিকশা চালক ইউনিয়নের আহ্বায়ক এস এম ইমদাদুল হক মিলন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নারায়ণগঞ্জ অটোরিকশা চালক ইউনিয়নের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা এম আর হায়দার রানা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা ও অটোরিকশা চালক ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে ওয়াজ পেশ করেন নলাদা আলী নেওয়াজ দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীল শাহজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাকওয়াত হোসাইন গরিবী।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ফকিরটোলা জামে মসজিদের খতিব হযরত নাহিদুল ইসলাম আল কাদরী এবং নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু হানিফ আশরাফী।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সদস্য সচিব এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সেলিম হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আহমদ আলী, বন্দর সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি মো. শরীফ হাসান চিশতী, ১ নম্বর খেয়াঘাট সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারাদার মো. ডিউক শিকদার এবং নারায়ণগঞ্জ অটোরিকশা চালক ইউনিয়নের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিলন। ওয়াজ মাহফিলে বক্তারা হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর জীবনাদর্শ ও আধ্যাত্মিক দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ বলেন, “সন্তানদের বয়স সাত বছর হলেই নামাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নামাজের কোনো বিকল্প নেই। নামাজই বেহেশতের চাবি। যত প্রকার ইবাদতই করা হোক, নামাজ আদায় করতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দুনিয়াতে থেকেও দুনিয়ার মোহে আবদ্ধ না হওয়াই প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা। বিলাসী জীবন পরিহার করে সাদামাটা জীবনযাপন এবং সর্বদা স্রষ্টার স্মরণে মশগুল থাকাই ছিল হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর জীবনের মূল আদর্শ। অলীরা নিজের জীবন উৎসর্গ করে আল্লাহপাকের হেদায়েতের বাণী প্রচার করাকেই তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।”
ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারুক ও নেওয়াজ বিতরণ করা হয়।
বিআলো/তুরাগ



