নোয়াখালীতে ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ পুলিশের লাঠিপেটা

নোয়াখালীতে ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ পুলিশের লাঠিপেটা

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী শহরে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছেন সাংসদ মোহাম্মদ একরামূল করিম চৌধুরীর একদল অনুসারী। 

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁরা মিছিল নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে গেলে সেখানে পুলিশি বাঁধার মুখে পড়েন। পুলিশ মিছিলকারীদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কয়েকজন আহত হন। এর আগে গত রবিবার জেলা শহরে আওয়ামী লীগের বিবদমান তিনটি পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা-সংঘর্ষের জেরে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

সকাল থেকে শহরে তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ। টহলে রয়েছেন র‌্যাবের সদস্যরা। সকালে শহরের মাইজদী বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ড, পৌরসভা কার্যালয়, হাসপাতাল সড়কের মোড়, মোহাম্মদীয়া মোড়, টাউন হল মোড়, আবদুল মালেক উকিল সড়কের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে, জামে মসজিদ মোড়, পৌর বাজার ও রশিদ কলোনি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি জায়গায় ১৪৪ ধারা কার্যকরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক পাহারায় রয়েছেন।

এসব স্থানে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে চলাচলকারীদের ব্যাগ তল্লাশি করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। তবে সড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হলেও লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে। টহলে থাকা পুলিশ সদস্যরা কোথাও মানুষের জটলা দেখলেই তাদের সরিয়ে দিচ্ছেন, যাতে কেউ জটলার সুযোগ নিয়ে কোনো অঘটন ঘটাতে না পারে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বেলা সোয়া ১১টায় বলেন, প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা কার্যকরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। টহলে রয়েছেন র‌্যাবের সদস্যরাও। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছেন।

সকাল থেকে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য তা করার মতো সুযোগও কাউকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে না। শহরের পরিস্থিতি শান্ত এবং প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অবশ্য পুলিশ সুপারের ওই বক্তব্যের ১৫ মিনিটের মাথায় সাংসদ একরামুলের অনুসারীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হন তাঁরা।

এ ঘটনার পর একাধিকবার পুলিশ সুপারের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বের করা মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর টাউন হল মোড় ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ সময় আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঘোষিত সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামূল করিমসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের দাবিতে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সমাবেশের ডাক দেন সাংসদ একরামুলের ঘনিষ্ঠ অনুসারী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ।

একই সময় কার্যালয় থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে টাউন হল মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ আহ্বান করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন। আবার একই সময়ে নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে পৌর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ডাকেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উল্যাহ খান।

সাংসদ একরামুলের অনুসারীরা সমাবেশের আগের দিন রবিবার বিকেল সাড়ে চারটায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে। একই সময় জামে মসজিদ মোড় এলাকায় একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে আসেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিনের অনুসারীরা। এ সময় একরামুলের অনুসারীরা শিহাবের অনুসারীদের ওপর হামলা চালান। আবার একই সময় পৌর মেয়র শহিদ উল্যা খানের অনুসারীরাও একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাউন হল মোড়ে আসেন। এ সময় একরামুলের অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।

পরে পুলিশ একরামুলের দুই প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, সুধারাম থানার ওসি মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ বিনা উসকানিতে গতকাল তাঁর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় হামলা চালিয়েছে এবং গুলি করেছে। তারা এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।

তবে শিহাব উদ্দিনের এই অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য ওসি মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিনকে একাধিবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অবশ্য গতকালের ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়টি রাবার বুলেট ছুড়েছে।

বিআলো/শিলি