পুলিশের মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

পুলিশের মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

সুমন সরদার: মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পরিচালনায় ‘ওয়েসিস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ নামে একটি আধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

৬০ বেডের এই প্রতিষ্ঠানটি কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে রিভারভিউ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদের প্রচেষ্টায় একদল দক্ষ কর্মী বাহিনী এবং স্বনামধন্য টেকনিশিয়ান ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এ কেন্দ্র। যেখানে তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে সেখানে রোগী ভর্তি শুরু হবে। এর পাশাপাশি মানিকগঞ্জে নির্মাণ করা হবে একই মানের ৩০০ বেডের হাসপাতাল। সরকারি হিসেবে দেশে ৩৬ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। তবে সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের ৮০ লাখ মানুষ মাদকে আসক্ত। দেশে মাদকাসক্তদের সরকারিভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই সীমিত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অধীনে তেজগাঁও মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বেড আছে ১২৪টি। পাবনায় মানসিক হাসপাতালে মাদকাসক্তদের জন্য বেড আছে ২৫টি। শ্যামলীর মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বেড আছে ২০০টি।

এরমধ্যে মাদকাসক্তদের জন্য বরাদ্দ আছে ৫০টি বেড। সব মিলিয়ে মোট বেড আছে ২৪৯টি। যদিও কোনো কোনো মহল মাদকাসক্তকে সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিকদের মতে, এটি একটি রোগ। এর চিকিৎসাসেবা অবহেলিত। ওয়েসিস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটি চলবে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে। এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সুপার (এসপি) ডা. এস এম শহীদুল ইসলাম।

ওয়েসিস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মেডিক্যাল উইংয়ে আছে আর এমও, মেডিক্যাল অফিসার, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিক কনসালটেন্ট, এডিকশন কাউন্সেলর (ইকো ট্রেনিং প্রাপ্ত), ফ্যামিলি কাউন্সেলর, ফার্মাসিস্ট ও টেকনোলজিস্ট। এখানে রয়েছে ব্যায়াম করার অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি। ভবনের ওপরে ছাদে একাংশে ফুলের বাগান, অন্যপাশে ব্যায়ামাগার। ওয়েসিস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে যেসব ব্যবস্থা থাকবে তার মধ্যে অন্যতম হলো কাউন্সেলিং। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মাদকে আসক্ত ব্যক্তির আচার-আচরণে পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে।

বিআলো/ইলিয়াস