পার্বত্যবাসীর স্বপ্ন পূরণে ওয়াদুদ ভূইয়াকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা
নূর মোহাম্মদ হৃদয়, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি-২৯৮ নং আসনে তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন পার্বত্য জনপদের অবিসংবাদিত জননেতা আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। পাহাড়বাসীর মধ্যে এখন চলছে আনন্দ-উল্লাসের ঢেউ আর সবার চোখে একটাই প্রত্যাশা তাদের প্রিয় নেতাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেখার অপেক্ষা।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ওয়াদুদ ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার ৩১৫ ভোট। ৮২ হাজার ৭২৫ ভোটে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে তিনি পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠীর অকুণ্ঠ সমর্থনে ও আস্থার প্রমাণ রেখেছেন।
ওয়াদুদ ভূইয়া পূর্বে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও মন্ত্রী পদমর্যদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর এবার তৃতীয়বারের মতো জয়ী হয়ে তিনি আবারও পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বিজয়ের পর তিনি তার জয়কে পুরো খাগড়াছড়ির জনগণকে উৎসর্গ করে বলেছেন, এই বিজয় তার একার নয় এটি পাহাড়-বাঙালি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। তিনি পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে এই জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেমে এসেছে উৎসবের আমেজ।
ত্রিপুরা, চাকমা, মারমাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে মেতেছেন এবং অনেকেই মনে করছেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়ার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও পার্বত্য অঞ্চলের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা বিবেচনায় তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে (যেমন : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ, পর্যটন, শ্রম বা স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত) দায়িত্ব দেওয়া হলে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে নতুন গতি সঞ্চার হবে। তাদের অবিসংবাদিত নেতা এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অবহেলিত অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য,পর্যটন, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন।
বিজয়ী নেতা আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার এই তৃতীয় জয় পাহাড়ের মানুষের জন্য নতুন আশার আলো বয়ে এনেছে। কারণ ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী পদমর্যাদায় উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। পাহাড়ে বসবাসরত সকল জাতি গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে অর্থনৈতিক ব্যাপক পরিবর্তন করেছেন, বিশেষ করে যাতায়াত কৃষি, শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
বিআলো/আমিনা



