• যোগাযোগ
  • অভিযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    পাহাড়, হ্রদ আর সংস্কৃতির অনন্য ঠিকানা রাঙামাটি 

     dailybangla 
    29th Jan 2026 6:47 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    প্রকৃতির কোলে শান্তির খোঁজে পাহাড়ি জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

    রবিউল আলম মুন্না: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা রাঙামাটি। পাহাড়ি সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ কাপ্তাই হ্রদ, ঝর্ণা, বনাঞ্চল এবং বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারার কারণে রাঙামাটি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। শহরের কোলাহল ও যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটাতে রাঙামাটির জুড়ি মেলা ভার।

    কাপ্তাই হ্রদ: রাঙামাটির হৃদস্পন্দন

    রাঙামাটির প্রধান আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদ—বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সবুজের প্রতিচ্ছবি আর নীল জলরাশির মেলবন্ধনে এই হ্রদ এক অপরূপ দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি হলেও সময়ের পরিক্রমায় এটি রাঙামাটির পর্যটনের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা কিংবা পর্যটক বোটে করে শুভলং ঝর্ণা, বরকল, নানিয়ারচর ও আশপাশের দ্বীপগুলোতে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সূর্যাস্তের সময় হ্রদের বুকে আলো-ছায়ার খেলা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

    শুভলং ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক বিস্ময়

    রাঙামাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ শুভলং ঝর্ণা। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝর্ণার পানির প্রবাহ দর্শনার্থীদের কাছে এক অপূর্ব দৃশ্য উপহার দেয়। নৌপথে শুভলং পৌঁছানোর পথটিও অত্যন্ত মনোরম। বর্ষার পাশাপাশি শীতকালেও এই ঝর্ণা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এছাড়া কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, পেদা টিং টিং পাহাড় ও আশপাশের বনাঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।

    ঝুলন্ত সেতু: রাঙামাটির প্রতীক

    রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু জেলার অন্যতম পরিচিত স্থাপনা। কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত এই সেতুটি শহরের দুই অংশকে সংযুক্ত করেছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এটি রাঙামাটির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে হ্রদ ও পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।

    ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা

    রাঙামাটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। রাজবন বিহার পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ বিহার হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বৌদ্ধ ভক্ত ও পর্যটকদের আগমন ঘটে। এছাড়া চাকমা রাজবাড়ি পাহাড়ি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

    ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি

    রাঙামাটির বিশেষত্বের অন্যতম দিক হলো এখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি। চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রোসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে বসবাস করে আসছে। তাদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, উৎসব ও সামাজিক আচার পর্যটকদের কাছে ভিন্ন এক জগতের স্বাদ এনে দেয়। স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায় হাতে বোনা কাপড়, বাঁশ ও কাঠের তৈরি হস্তশিল্প, অলংকার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী। এসব পণ্য পর্যটকদের কাছে স্মারক হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।

    যাতায়াত ও আবাসন সুবিধা

    ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে রাঙামাটিতে যাতায়াত করা যায়। ঢাকা থেকে বাসযোগে সরাসরি রাঙামাটি পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৭–৮ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম থেকে সময় লাগে প্রায় ৩–৪ ঘণ্টা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা হলেও যাত্রাপথটি মনোরম। পর্যটকদের থাকার জন্য রাঙামাটিতে রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল, বিভিন্ন মানের হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে অবস্থিত রিসোর্টগুলো পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

    পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

    প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে রাঙামাটিতে পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে রাঙামাটি আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করতে পারে।

    উপসংহার

    সবুজ পাহাড়, নীল হ্রদ, ঝর্ণার কলকল শব্দ আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সমাহার রাঙামাটিকে করেছে অনন্য। প্রকৃতির কাছাকাছি এসে কিছু সময় কাটাতে এবং পাহাড়ি জীবনের ভিন্ন স্বাদ নিতে রাঙামাটি ভ্রমণ যে কোনো ভ্রমণপ্রেমীর জন্য হতে পারে আজীবন মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা।

    বিআলো/তুরাগ

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    M T W T F S S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031