ফোক রিমিক্স থেকে প্রেমের গানে: শান সায়েকের বহুমুখী সংগীত যাত্রা
পুরান ঢাকার ছোটবেলা থেকে সংগীতের শুরু
হৃদয় খান: যখন শীতের সকালে পুরান ঢাকার সরু গলিতে ফুরফুরে সুর ভেসে আসে, তখনই মনে হয়, সংগীতের জাদু সত্যিই যে মানুষের মন ছুঁতে পারে। বাংলাদেশী সংগীতের এক চির পরিচিত কণ্ঠশিল্পী শান সায়েকের কণ্ঠে সেই জাদু পাওয়া যায়। ফোক রিমিক্স হোক বা রোমান্টিক মেলোডি, শান সব ধারায় নিজের ছাপ রেখেছেন। আজও তার গানের স্বর অনেকের হৃদয়কে গরম রাখে, আর নতুন প্রজন্মের জন্য তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার নাম।
শান সায়েকের সংগীত যাত্রা শুরু হয় ছোটবেলা থেকেই। পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী পরিবার ও আশপাশের পরিবেশ থেকে গানের সঙ্গে পরিচিত হন। নিজের কণ্ঠকে পেশাদারভাবে বিকশিত করার জন্য ১৯৯৭ সালে তিনি নিজের ব্যান্ড ‘ইমোশন’ গড়ে তোলেন। ব্যান্ড সংগীতের মধ্য দিয়েই তিনি পরিচিতি পান এবং ধীরে ধীরে আধুনিক গান ও রোমান্টিক ঘরানায় নিজের অবস্থান শক্ত করতে থাকেন।
শান সায়েক আজ পর্যন্ত ছয় শতাধিক গান গেয়েছেন। ২০০৩ সালে তিনি ফোক রিমিক্স ধারায় গান করার মাধ্যমে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম সলো অ্যালবাম, এরপর একক গান, নাটক এবং বিভিন্ন অডিও প্রজেক্টে তিনি নিয়মিত কণ্ঠ দিয়েছেন। ২০১১ সালে খেয়া ও শানের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘শিশির ভেজা’ গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
শান শুধু কণ্ঠশিল্পী নন, তিনি সংগীত পরিচালক হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ২০১৬ সালে ফাহমিদা নবীর গাওয়া ‘সাদাকালো’ অ্যালবামের সংগীত পরিচালনা করেন তিনি, যা সংগীতাঙ্গনে প্রশংসিত হয়। ২০২২-২৩ সালে তার গান ‘এমন ভালোবাসবো তোমায়’ এর জন্য চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন শান সায়েকের দীর্ঘ সংগীত যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বর্তমান সময়ে শান নতুন প্রজন্মের জন্যও উৎসাহ দিচ্ছেন। আসন্ন ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে লুৎফর হাসানের কথায়, স্নিগ্ধা জামানের সঙ্গে একটি বিশেষ প্রেমের গান প্রকাশ করতে যাচ্ছেন তিনি। এই গানটি প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য নতুন এক উপহার হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সংগীতের বাইরে শান জীবনকে বাস্তবমুখী দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখেন। তিনি বলেন, সংগীতের বাইরে হয়তো ব্যবসায় যুক্ত হতেন, কিন্তু গানই তাকে ধৈর্য ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য তার বার্তাও স্পষ্ট: “সংগীতে টিকে থাকতে হলে নিজের ভিত শক্ত করতে হয়। ভিত দুর্বল হলে সাময়িক সাফল্য আসলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”
শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে শান আরও বলেন, ভালো গান মানুষকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখে। সংগীতের প্রভাব কেবল আনন্দ দেয় না, জীবনের মন্থর মুহূর্তকেও প্রেরণায় পরিণত করে। এই বিশ্বাস নিয়েই শান সায়েক আজও নিয়মিত নতুন কাজ করছেন এবং নিজের অবস্থান ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, শান সায়েকের সংগীত যাত্রা প্রমাণ করে, সঙ্গীত কেবল শিল্প নয়, এটি মানুষের অনুভূতি ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফোক রিমিক্স থেকে প্রেমের গানের রোমান্স—শান সবকিছুর মধ্যেই নিজের অনন্য ছাপ রেখে যাচ্ছেন। সংগীতপ্রেমীদের জন্য তার সুরের জাদু সবসময়ই এক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকছে।
বিআলো/তুরাগ



