বইমেলায় আমিরুল মোমেনীন মানিকের আল মাহমুদ  ও হুমায়ূন আহমেদের জরুরি বৈঠক

বইমেলায় আমিরুল মোমেনীন মানিকের আল মাহমুদ  ও হুমায়ূন আহমেদের জরুরি বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: অমর একুশে বইমেলায় আমিরুল মোমেনীন মানিকের আল মাহমুদ ও হুমায়ূন আহমেদের জরুরি বৈঠক বইটি পাওয়া যাচ্ছে। বইটি প্রকাশ করেছে কালো প্রকাশনী। প্রচ্ছেদ তৈরি করেছেন মোহাম্মদ আদনান। বইটির মূল্য ৩০০ টাকা। লেখক বইটি ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া, ডা. শেখ মহিউদ্দিন, প্রতিভাধর ৪ তরুণ-হাবিব মোস্তফা নাগরিক সুফি, সাংবাদিক মঈন বকুল, ফিচার লেখক ফরিদ উদ্দিন রনি, ফিচার লেখক তানজিদ শুভ্রকে উৎসর্গ করেন।

বইটির বিষয়ে লেখক আমিরুল মোমেনীন মানিক বলেন, আল মাহমুদ ও হুমায়ূন আহমেদের জরুরি বৈঠক আমার লেখক জীবনের স্বপ্নের কাজ। এটি আমার ২২তম গ্রন্থ। উপন্যাস হিসেবে পঞ্চম। ঘুড়ি উড়াবার বয়স থেকে আমি আল মাহমুদের লেখার ভক্ত। অন্যদিকে, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যের নন্দন কাননে প্রবেশ করি কলেজ লাইফে। তাঁরা দু’জনই বাংলা ভাষার অসংখ্য মানুষের কাছে রূপকথার রাজপুত্রের মতো। তাদের নিয়ে যেমন বিপুল উচ্ছ্বাস আছে, তেমনি সমালোচনা ও নিন্দার কাঁটাও আছে। সমালোচনা থাকতেই পারে, ব্যক্তিগতভাবে সংস্কারের উদ্দেশ্যে করা সকল সমালোচনাকে আমি সুস্বাগত জানাই। কিন্তু সমালোচনার নামে চরিত্রহনন এবং অপবাদ দেওয়া, এক ধরনের মানসিক বিকারগ্রস্ততা ছাড়া আর কিছু নয়।

বাংলাদেশে দু’টো শব্দ খুব প্রচলিত। ধর্মান্ধতা এবং নাস্তিকতা। এই দু'টো তকমা অন্যের গায়ে সেঁটে দিতে পারলে আমরা অনেকে আনন্দিত হই এবং নিজে জাতে উঠে গেছি বলে অনুভব করি। মূলত মতান্ধ মানুষ তৈরি করে যারা এই সমাজকে শান্তি, প্রগতি ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চান; তারাই এসব বিভেদ দেয়াল তৈরি করেন।

এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে আমি বিভেদের উস্কে দেওয়া অনুষঙ্গের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি। নিজের অনুভূতিকে ঢেলে দিয়ে সামনে এনেছি সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্বের অসঙ্গতিকে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে এসেছে গ্রাম, শহর এবং আন্তর্জাতিক বিষয়। প্রযুক্তি এখানে ধরা দিয়েছে অন্যরকম আলোয়। আমরা যে সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, তার থেকে ১০০ বছর সামনে এগিয়ে এই উপন্যাসের গল্প বলার চেষ্টা করেছি আমি। 'আল মাহমুদ ও হুমায়ূন আহমেদের জরুরি বৈঠক' উপন্যাসটি মূলত আমার মৃত্যুর পরের ঘটনা নিয়ে। 

আমিরুল মোমেনীন মানিক জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার এক নিভৃত শ্যামল গাঁও গোবিন্দপুর নাংলা কাঠপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা মুহাম্মদ জামালউদ্দিন ছিলেন স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক। তিনি নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরে জামাল বাহিনী গড়ে তোলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তার মা রোকেয়া জামাল একজন সরকারি চাকুরিজীবি ছিলেন। সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে মানিক জামালপুরের মেলান্দহ উমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন এবং উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হন। এরপর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স এবং পরে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে মাস্টার্স করেন মানিক। বর্তমানে তিনি হামদর্দ বাংলাদেশের পরিচালক, তথ্য ও গণসংযোগ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।