বাঘাইছড়িতে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

বাঘাইছড়িতে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

***কাদা মাড়িয়ে নৌকায় কাচালং নদী পারাপার

পলাশ চাকমা,পার্বত্য অঞ্চল ব্যুরো: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৫নং বঙ্গলতলী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কাচালং নদী। নদীর ওপারে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী করেঙ্গাতলী বাজার এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নদী পারাপারের জন্য নেই কোনো সেতু। প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যে বা নিজেদের উৎপাদিত শাক-সবজি নিয়ে কাদা মাটি মাড়িয়ে নৌকায় করে বাজারে আসা-যাওয়া করতে হয় স্থানীয়দের।

এ ছাড়াও বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা কাদামাখা জামা নিয়ে যায় বিদ্যালয়ে, পড়তে হয় চরম বিপাকে। নষ্ট হয়ে যায় তাদের পরিধানের জামা-কাপড়। কাদাই যেন এখন তাদের দুঃখ। এতেই চরম দুর্ভোগে প্রায় কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। তাই এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি কাচালং নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের। কারণ সেতুটি নির্মাণ হলে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টগুলো লাঘব হবে।

বঙ্গলতলী এলাকার বাসিন্দা ধনেয়া চাকমা জানান, পাহাড়ে প্রতিদিনই ছোট-বড় ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতেই কাচালং নদীর দুই পাড়ে কাদা মাটিতে ভরপুর থাকে। ফলে এখানকার স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত কাদা মাড়িয়ে নৌকায় করে যাতায়াত করেন। এতে কোমলমতি শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা বেশি বিপাকে পড়েন।

একই এলাকার বাসিন্দা কৃষক মনিষ দেওয়ান ও সূর্য রেখা চাকমা জানান, কাচালং নদীর ওপাড়ে প্রতি সপ্তাহে বসে করেঙ্গাতলী বাজার। এ বাজারে নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য নৌকায় গাদাগাদি করে নদী পারাপার হওয়ার সময় কখন জানি নৌকা ডুবে যায়। সব সময় প্রাণের ভয় নদী পারাপার হতে হয়। তারা আরো জানান, এমনও দিন গেছে নৌকা ডুবে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত নৌ-দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। একটি সেতু নির্মাণ করে তাদের কষ্ট দূর করার জন্য সরকারে প্রতি আহ্বান জানান তারা।

৩৫নং বঙ্গলতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান জ্যোতি চাকমা জানান, কাচালং নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ২ বছর পূর্বে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে (এলজিইডি) আবেদন করা হয়েছে। ইতিপূর্বে মাটি পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজও শেষ হয়েছে। এখন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। 

বিআলো/ইলিয়াস