বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তুলতে এডিবির উচ্চপর্যায়ের মিশনে বিনিয়োগ ও সহায়তার আশ্বাস
ভূপেন দাশ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার উদ্যোগে সক্রিয় হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ লক্ষ্য সামনে রেখে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ংয়ের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছে।
বন্দর পরিদর্শনের শুরুতেই প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়। চবক চেয়ারম্যান প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অভাবনীয় অর্জন ও সব সূচকে প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড।
বর্তমান প্রশাসন বন্দরকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে ধারাবাহিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে মাল্টি-মোডাল কানেক্টিভিটি ও লজিস্টিক চেইন শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন চবক চেয়ারম্যান।
এ ক্ষেত্রে এডিবির কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বন্দরের জন্য একটি যুগোপযোগী মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, অপারেশনাল পর্যায়ে কারিগরি সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে এডিবির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা কামনা করেন।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. হো ইউন জিয়ং বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বন্দরের উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা ও ঋণ প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, Let’s build the future of Bangladesh’s gateway together। এডিবি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পরে প্রতিনিধিদলটি নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), বাস্তবায়নাধীন লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও বে টার্মিনাল এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে। বন্দরের সার্বিক অগ্রগতি, অপারেশনাল সক্ষমতা ও কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এডিবি প্রতিনিধিরা।
সৌজন্য সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েল, বে টার্মিনালের প্রকল্প পরিচালক কমডোর মো. মাহফুজুর রহমান, পরিচালক (নিরাপত্তা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলা এবং এডিবি ও চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জানা যায়, নর্থওয়েস্ট-ঢাকা-সাউথইস্ট ইকোনমিক করিডর নিয়ে চলমান গবেষণার অংশ হিসেবেই এডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ এই উচ্চপর্যায়ের মিশন চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে এসেছে। দুদিনের সফরে প্রতিনিধিদলটি বন্দরভিত্তিক লজিস্টিকস, সড়ক ও রেল সংযোগ, পণ্যপ্রবাহ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং উন্নয়ন চাহিদা বিশ্লেষণ করবে।
এ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করিডরভিত্তিক অর্থনৈতিক হাব ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে এই অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়িত হলে সড়ক-রেল-লজিস্টিকস অবকাঠামোয় সমন্বিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে যা জাতীয় বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বিআলো/আমিনা



