বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র ও  ইতিহাসপ্রেমী এক তরুণ গিরিধর দে

বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র ও  ইতিহাসপ্রেমী এক তরুণ গিরিধর দে

‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ প্রাচীন বাংলার দুষ্প্রাপ্য দলিলাদির এক অপরূপ তথ্যভান্ডার ও সংগ্রহশালা। শত বছরের অধিক বছরের প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সৌন্দর্য মণ্ডিত খণ্ডিত এসব তথ্যচিত্র ও দলিলাদি আজ ও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘গিরিধর দে’ নামক ২৬ বছর বয়সী ইতিহাসপ্রেমী এক তরুণ সমাজকর্মী ও গবেষকের সংগ্রহশালায়। ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ নিয়ে এ প্ল্যাটফর্মের কর্ণধার গিরিধর দে’র সঙ্গে কথা বলেছেন

ইবনে ফরহাদ তুরাগ
প্রাচীন বাংলার অবিকৃত ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণের উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত অনলাইন কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম ও সংগ্রহশালা ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ সৃষ্টির শুরুটা কীভাবে?
গিরিধর দেঃ ছোটবেলা থেকেই ইতিহাসচর্চা ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে আমার আগ্রহের জন্ম হয়েছিল, আর এই আগ্রহের সলতে যিনি জ্বালিয়েছিলেন তিনি আমার বাবা স্বর্গীয় সুধীর কুমার দে। ঠাকুমার বাবা ছিলেন জমিদার। বনেদী পরিবার হওয়ায় পূর্বপুরুষদের ব্যবহারকৃত প্রচুর এন্টিক সংগ্রহ ছিল বাড়িতে। বাড়িতে পুরাতন পত্রিকারও একটি বড় সংগ্রহ ছিল। বাবা নিয়মিত পত্রিকা পড়তেন, বাবার পত্রিকা পড়া শেষ হলে বাবার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সেগুলো সযত্নে জমিয়ে রাখতাম। যথাযথ সংরক্ষণ ও সংগ্রহের সুবাদে আমাদের বাড়িতে গড়ে উঠেছিল একটি ছোট সংগ্রহশালা। আমার বয়স যখন সাড়ে চার বছর তখন আমাদের পরিবারের সঙ্গে ঘটে দুর্বিষহ এক অন্যায় ঘটনা। ২০০১ সালে সর্বস্ব লুট ও সাম্প্রদায়িক হামলার স্বীকার হয় আমাদের পরিবার। এ সময় শখের সংগ্রহগুলোও লুট হয়ে যায়। এরপর আমি তখন প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র, বাবার থেকে সৃষ্টি হওয়া আগ্রহ ও মায়ের প্রশ্রয়ে পুনরায় শুরু হয় সংগ্রহ। হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে প্রযুক্তিপ্রেমী বাবা আমাকে একটি মোবাইলফোন কিনে দেন। ধীরে ধীরে ইন্টারনেট বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে উঠি। ২০১০ সালে হাইস্কুলের গন্ডি পার হওয়ার আগেই বাবাকে হারাই। পরবর্তীতে মা ‘রীনা রানী দে’-এর উৎসাহ ও প্রশ্রয়ে সংগ্রহশালার কাজ চলতে থাকে। হঠাৎ একদিন মাথায় এলো অতিমূল্যবান এই সম্পদগুলো আমাদের মতো সারাদেশেই বিভিন্ন পরিবারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে পারে যা গুরুত্বসহ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ প্রয়োজন নতুবা এগুলোও ভবিষ্যতে নষ্ট হয়ে যাবে। অনুভব করি আমার এটি নিয়ে কিছু করা প্রয়োজন। এদিকে তখন ক্রমেই জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো, যার অধিকাংশ ব্যবহারকারিই আমাদের তরুণ প্রজন্ম। ব্যবহারকারির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া ও বিভিন্ন সময়ে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে দেখি। দেশীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতির প্রভাবও বাড়তে শুরু করে, তখন ভাবনায় আসে নতুন এক চিন্তা। তরুণ প্রজন্মের বই পড়ার প্রতি অনাগ্রহ ও অনলাইনে সময় কাটানোর প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে কাজ শুরু করি যা পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় ২০১৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সংগ্রহের প্রায় ১০ হাজার ইতিহাসভিত্তিক দলিলাদি নিয়ে ১৬ জুলাই ২০১৬ সালে তথ্যসমৃদ্ধ দেশ ও জ্ঞানমনষ্ক সমাজ গঠনের অভিলক্ষ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করি ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ নামের প্ল্যাটফর্ম ও সংগ্রহশালা।
প্রাচীন বাংলার অবিকৃত ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’-এর ভূমিকা কি?
গিরিধর দেঃ ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ শুধুমাত্রই কোনো গ্রুপ বা পেইজ নয়। এটি ব্যক্তি উদ্যোগ ও অর্থায়নে পরিচালিত একটি অনলাইন ও অফলাইন কেন্দ্রিক সংগঠন ও সংগ্রহশালা। যেটি জন্মলগ্ন থেকেই সারাদেশব্যাপী বাংলার আবহমান ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সম্পর্কিত দুষ্প্রাপ্য দলিলাদি (ছবি-ভিডিও-দলিল-দস্তাবেজ-নথি-সংকলন) সংগ্রহ করে তা চর্চা, গবেষণা, প্রচার, তথ্যবিকৃতিরোধ ও সেগুলো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি সমাজের নানা বিষয় নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে দেশব্যাপী কাজ করছে।
এই প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহশালায় বর্তমানে কত সংখ্যক দলিলাদি ও তথ্যচিত্র আছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এর পাঠক সংখ্যা কত?
গিরিধর দেঃ আমাদের এ পর্যন্ত দুষ্প্রাপ্য দলিলাদি বিস্তারিত তথ্যসহ সংগ্রহের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আমাদের ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। গড়ে প্রতি মাসে পাঠক সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। আমাদের একটি ভালোমানের কন্টেন্ট প্রায় ৫০ লাখ মানুষের নিকট পৌঁছায়।
এই গ্রুপের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও প্রাপ্তির বিষয়ে কিছু বলুন?
গিরিধর দেঃ বাংলার আবহমান ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, লালন, সংরক্ষণ ও বিকাশের মাধ্যমে একটি জ্ঞানমনষ্ক আলোকিত সমাজ ও তথ্যসমৃদ্ধ দেশ গঠনই আমাদের লক্ষ্য। লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমরা নিজেদের কার্যক্রমকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিয়েছি। যেমন-মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। এসব বিভাগকেন্দ্রিক ছবিগুলো আলাদা করে রাখা হয়। আমাদের বেশকিছু ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ও উদ্যোগও রয়েছে যেমন, ১) বুকের ভেতর যুদ্ধকথা, ২) হারানো বন্ধুর খোঁজে, ৩) তথ্য সেবা, ৪) সামাজিক সচেতনতা।
দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ ও আজীবন সম্মাননা, হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২২, অগ্রযাত্রা কর্মদীপ্ত পদক ২০২২ অর্জনসহ আমাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নানাসময়ে পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় এই প্ল্যাটফর্মটি কীভাবে অবদান রাখছে?
গিরিধর দেঃ মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় ঘটনা। এই যুদ্ধের মধ্যে দিয়েই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ, নিজস্ব পতাকা। ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা, গবেষণা, প্রচার এবং সংরক্ষণে জনমলগ্ন থেকেই বিভিন্ন উপায়ে কাজ করছে। তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আগ্রহী করে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দলিলাদি প্রচার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধার মুখ থেকে সরাসরি রণাঙ্গনের বীরত্বগাথা শোনা ও প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তরুণ প্রজন্মসহ সকলের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়াও অনলাইনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল, কলেজে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সভা, সেমিনার ও আলোকচিত্র প্রদর্শনসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবদান রাখছে। 
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দুষ্প্রাপ্য ছবি ও দলিলাদি কীভাবে সংগ্রহ করা হয়? পাঠকদের সাড়া কীভাবে পাচ্ছেন?
গিরিধর দেঃ অবহেলায় ঘরে পড়ে আছে, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অথচ দলিলাদিগুলো আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করে এরূপ ছবি, তথ্য ও দলিলাদিগুলো আমরা দেশব্যাপী সংগ্রহ করি। সংগ্রহসংখ্যা বাড়াতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা হয়, ই-মেইল, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, হোয়াইটস অ্যাপসহ নানা মাধ্যমে নিয়মিত আমাদের সংগ্রহ সংখ্যা বাড়ছে। পাঠকদের মাধ্যমে দেশভাগের পূর্ব থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের রাজপথের দৃশ্য কিংবা গ্রাম-বাংলার মেঠো পথ বা জনপ্রিয় শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, লেখক, অভিনেতা, অভিনেত্রীদের দুর্লভ সব আলোকচিত্র, চিঠিপত্র, ব্যবহার্য সামগ্রীসহ পারিবারিক সংগ্রহের অনেক দলিলাদিই আসছে আমাদের সংগ্রহে। এসব আলোকচিত্র, পত্র, তথ্য ও তার নেপথ্যের ঘটনাকে নেটিজেনদের কাছে উপস্থাপন করে খুব অল্প দিনেই সাড়া ফেলছে এই সংগঠনটি। শুরুতে কেবল অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিসর বেড়েছে ব্যাপক। অনলাইনের বাইরেও চলছে নানা কার্যক্রম। এখানে কেবল ছবিই নয়, ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও তথ্য উঠে আসে ওই বিষয় সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে। এছাড়া এই তথ্যগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে ও ভেতরের ঘটনা তুলে ধরতে ইতিহাসের বই, ইন্টারনেট ঘাটার পাশাপাশি বিষয় সম্পর্কিত গবেষকদের সহযোগিতাও নেওয়া হয়। 
পোস্ট অনুমোদন করে কোনো আপত্তিকর অবস্থায় পড়েছেন? মানুষের আস্থা কীভাবে অর্জন করলেন?
গিরিধর দেঃ শুরুতে আমি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ছবি ও তথ্যগুলো তুলে ধরতাম। এরপর সময়ের সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়ে। মানুষের আগ্রহ ও আস্থা বৃদ্ধির ফলে নানারকম উপায় অবলম্বন করা হয়। ফেসবুকে গ্রুপ খোলা হয়। সেটির মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি ভালো নেটওয়ার্কও তৈরি করতে সক্ষম হই। প্রথমদিকে কিছু আপত্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলেও কিছুদিনের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের আস্থা অর্জন করে সংগঠনটি। এরপর আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হতে ও সরাসরি অংশগ্রহণ করতে থাকেন দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, অভিনেতা, আলোকচিত্র শিল্পীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা নিজেদের সংগ্রহে থাকা পুরাতন ও ঐতিহাসিক ছবি পাঠাতে থাকেন। এভাবে বাড়তে থাকে বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্রের সংগ্রহশালা।
এই সংগঠন ও সংগ্রহশালার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?
গিরিধর দেঃ আমি এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল আর্কাইভ ও ই-লাইব্রেরি করতে চাই এবং পাশাপাশি সমাজের নানাবিষয় নিয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করতে চাই। 

প্রচার-প্রচারণায় ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র' এই প্ল্যাটফর্মটি কতটা এগিয়ে?
গিরিধর দেঃ আমাদের দেশে ও দেশের বাইরে প্রথম সারির কিছু টেলিভিশন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়াগুলো ইতিমধ্যে আমাদের কার্যক্রমগুলো তুলে ধরেছে। 

এছাড়াও গুগলে গিয়ে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ অথবা আমার নাম ‘গিরিধর দে’ লিখে সার্চ করলে প্রায় ৪০০ কভারেজ পাওয়া যাবে। গিরিধর দে-এর জন্ম ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ সালে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার চাঁদহাট গ্রামের এক উচ্চবংশীয় পরিবারে। পিতা সুধীর কুমার দে ও মাতা রীনা রানী দে। পিতা ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও মা গৃহিনী। গিরিধরের পূর্বপুরুষ ছিলেন জমিদার। গিরিধর দে-এর শৈশব গ্রামেই কেটেছে। তিনি চাঁদহাট বাজার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং পার্শ¦বর্তী জেলাধীন মুকসুদপুর কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও পরবর্তীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অতি সম্প্রতি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর থেকে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে সম্পন্ন করেছেন। ইতিহাস, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ গিরিধরের পছন্দের বিষয়। তিনি একজন সমাজসেবক, সংগ্রাহক ও তরুণ গবেষক। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে সমাজের নানাবিষয় নিয়ে কাজ করেন তিনি। তিনি ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। দেশ ও জাতির স্বার্থে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সিআরআই’-এর অঙ্গসংগঠন ‘ইয়াংবাংলা’ কর্তৃক সংস্কৃতি ও যোগাযোগ বিভাগে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ আরভি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২২’সহ নানাসময়ে পুরস্কার পেয়েছেন।