বারবার নির্বাচন, তবু অচল জীবন: মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়ন আজও দূরের নোঙর
ফরহাদ হোসেন বাবু, (গলাচিপা) পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর মান্তা সম্প্রদায় বা জলে স্থায়ীভাবে বসবাসকারি জনগোষ্ঠীর অভিযোগ যে পূর্বে ১২ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও তাদের জীবনমানের এতটুকু উন্নয়ন বা পরিবর্তনের ছোয়া লাগে নি। জন্ম থেক মৃত্যু অবধি ভিটেমাটি হীন জলে ভেসে বেড়ানো নৌকায় বসবাসকারী একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনমানের কথা দেশের সকল নির্বাচিত সরকার উপেক্ষা করে গেছেন বলে অভিযোগ মান্তা সম্প্রদায়ের।
ভিটেমাটি হারা ফিটনেস বিহীন ছোটো খাটো কাঠের নৌকায় সদ্য নবজাতক সহ বৃদ্ধা আবাল বনিতারা যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে নদীতে। কখনো এ ঘাটে ত আবার ওঘাটে নোঙর ফেলে। একমাত্র উপার্জনের ক্ষেত্র নদ নদী যা থেকে মৎস্য সংগ্রহ করে জীবনের চাহিদা মেটায়।
এদিকে নানাবিধ রোগশোক, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় আর জলমহালের জলদস্যু ও ডাকাতদের আক্রমনে একমাত্র উপার্জনের জাল নৌকা মাঝে মধ্যে হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে এসব সম্প্রদায়। যতটুকু সুখে থাকবে তা আবার কেড়ে নেয় ডাঙ্গার মৎস্য আড়ৎদার ও মৎস্য সিন্ডিকেট গোষ্ঠী।
আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এসব জলবাসিন্দারা ভোট দিবেন কিন্তু তারা জানেন না সরকার কতৃক তাদের জীবনমানের এতটুকু উন্নয়নের নোঙর আরো কত দূরে ফেলতে হবে?
কথা বলছিলাম মান্তা সম্প্রদায় বা জল বাসিন্দাদের সাথে। দৈনিক বাংলাদেশের আলো কে তারা বলেন পটুয়াখালীতে কয়েক হাজার মান্তা বা জল বাসিন্দা আছে বিশেষ করে পটুয়াখালী ৩ ও ৪ আসনের উপকূলীয় এলাকার নদ নদীতে আমরা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছি। এসব সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষ পূর্বের জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে ভোট দিয়েছি এবং নৌকায় বসবাসের কারনে সঠিক সময় সরকারের দেওয়া বার্তা না জানতে পেরে কেউ কেউ ভোটার হতে পারিনি। তবে আমরা যারা ভোট দিয়েছি সরকারের পর সরকার ও এমপি মন্ত্রীর পরিবর্তন হলেও আমাদের কোনো পরিবর্তন নেই।
সম্প্রদায়ের একজন বৃদ্ধা বলছেন আমরা এদেশের নাগরিক, গত আওয়ামী সরকার সারাদেশের অনেক ভূমিহীন ও আশ্রয়হীনদের ঘর দিয়েছে কিন্তু আমরা সেই ভূমিহীন ও আশ্রয়হীন যাযাবর জীবন যাপন করছি এখোনও। প্রতিবার নির্বাচন আসলে আমাদের মতো সরল সোজাদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনোরকম ভোট নিতে পারলেই এই দুয়ারে দীর্ঘ ৫ বছরে আর কেউ পা রাখেনা।
বিআলো/তুরাগ



