বিলম্বিত শীতে বিপাকে গোবিন্দগঞ্জের হোসিয়ারি শিল্প
তৌফিকুল ইসলাম প্রধান (মহন), গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোচাশহর হোসিয়ারি শিল্প এলাকায় চলতি মৌসুমে শীতবস্ত্র ব্যবসায় বড় ধরনের মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
শীতের তীব্রতা দেরিতে শুরু হওয়া এবং দেশি-বিদেশি বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে এখানকার ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। কোচাশহর, বুনোতলা ও চাঁদপাড়া অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই দেশের হোসিয়ারি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এখানকার উৎপাদিত শীতবস্ত্র দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষের চাহিদা পূরণ করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর এই শিল্পকে ঘিরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই শীতবস্ত্রের প্রধান বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের অধিকাংশ সময় জুড়ে শীতের তীব্রতা না থাকায় পাইকারি ক্রেতাদের আনাগোনা কমে যায়। ফলে মৌসুমের শুরুতেই প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় বাজারে স্পষ্ট মন্দাভাব দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সারা বছর ধরে উৎপাদিত সোয়েটার, কার্ডিগান, মাফলার, মোজা ও অন্যান্য শীতবস্ত্র এখনো বিক্রি না হয়ে পড়ে আছে। কোচাশহর এলাকায় চার শতাধিক বিপণি বিতানে বিপুল পরিমাণ শীতবস্ত্রের মজুদ জমে থাকায় ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নিম্নমানের শীতবস্ত্র বাজারে ঢুকে পড়ায় স্থানীয় কারখানার পণ্যের বিক্রি আরও কমে গেছে। এতে ন্যায্য দামে মানসম্মত পণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকট ও কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ বিক্রি কম থাকায় বাড়তি খরচ পুষিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েছে। এর ফলে বড় কারখানাগুলোর রপ্তানি আদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে যা সামগ্রিকভাবে গোবিন্দগঞ্জের হোসিয়ারি শিল্পকে আরও চাপে ফেলেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতে শুধুমাত্র সৈয়দপুরের মোকামেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কাঙ্খিত বিক্রি না হওয়ায় সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। সব মিলিয়ে কোচাশহর, বুনোতলা ও চাঁদপাড়া অঞ্চলের হোসিয়ারি ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে কোটি কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। দ্রুত বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআলো/আমিনা



