বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আসামিদের তথ্য সংরক্ষণে হাইকোর্টের নির্দেশ

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আসামিদের তথ্য সংরক্ষণে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সব থানা ও কারাগারে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আসামিদের তথ্য সংরক্ষণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। শিশির মনির আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তিনটি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সব থানায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করে আসামির হাতের আঙুল ও তালুর ছাপ এবং চোখের মণির তথ্য সংরক্ষণ করা, গ্রেপ্তারের পর আসামির সম্পূর্ণ মুখের ছবি ধারণ ও কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ এবং একইভাবে আসামির তথ্য সংরক্ষণে দেশের সব কারাগারে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করে তথ্য সংরক্ষণ করা।

গত বছরের ১০ মার্চ হাইকোর্টের একই বেঞ্চ এক আদেশে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে নোয়াখালীর জহির উদ্দিন ওই মামলার প্রকৃত আসামি কি না, তা তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। তদন্ত করে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলমের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জহির উদ্দিনকে খিলগাঁও থানার মামলায় (নম্বর-১২(৪)১৩) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। জহির উদ্দিন প্রকৃতপক্ষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাধারী ব্যক্তি নন, প্রকৃত আসামি মোদাচ্ছের আনছারী ওরফে মোহাদ্দেস।

আইনজীবীর দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল নাশকতার মামলাটি দায়ের হয়। পরে পুলিশ নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের শাহজাদপুর গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে মোদাচ্ছের আনছারীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মোদাচ্ছের তাঁর নাম-ঠিকানা গোপন করে নিজেকে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আজগর আলী মোল্লাবাড়ি মসজিদ রোড এলাকার মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নামে পরিচয় দেন। এরপর ওই বছরের ৩১ অক্টোবর মোদাচ্ছের জামিন পেয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি জহির উদ্দিন নামেই আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন।

জহির উদ্দিনসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর জহিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করলে গত বছরের ১০ মার্চ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

আদালত জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অবৈধ এবং আইনবহির্ভূত হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

বিআলো/শিলি