মানিকগঞ্জে ইয়ামেন থেকে এসে ইসলাম প্রচার করেছেন শাহ রুস্তমবাগদাদীর(রঃ)

মানিকগঞ্জে ইয়ামেন থেকে এসে ইসলাম প্রচার করেছেন শাহ রুস্তমবাগদাদীর(রঃ)

মোঃ আবুল বাসার আব্বাসী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ইয়ামেন শহর থেকে পাথরে ভেসে এসে ইসলাম প্রচার করেছেন শাহ রুস্তম বাগদাদী (রহঃ)। উপজেলার মাচাইন গ্রামে খানকা প্রতিষ্ঠা করে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাজ শুরু করেছিলেন। এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান।

মাকিগঞ্জ জেলা শহর থেকে ২২/২৩ কিলোমিটার দক্ষিনে হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলার সীমান্তে ইছামতি নদীর পাশেই গ্রামটি অবস্তিত । এই গ্রামে রয়েছে সুফি সাধক হযরত শাহ রুস্তম বাগদাদীর(রঃ)মাজার ও ঐতিহ্যবাহী মাচাইন মশজিদ। শিলালিপি অনুযায়ী ১৫০১ সালে দৃষ্টি নন্দন মসজিদটি হোসেন শাহ্ কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল। চুন, সুরকি ও সাদা সিমেন্ট দিয়ে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট আকর্ষণীয় এই মসজিদটি দেশের অন্যতম পুরাকীর্তির একটি।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪৫শতাংশ জায়গার উপর নির্মিত মসজিদটির মূল অংশের ওপর রয়েছে তিনটি গম্বুজ। উত্তর ও দক্ষিণ পাশের গম্বুজের চেয়ে মাঝের গম্বুজটি একটু বড় যা সবার দৃষ্টি কাড়ে। মসজিদটির মূল অংশের ওপর রয়েছে নিখুঁত কারু কাজ। প্রাচীন এ মসজিদটি ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। কয়েক বছর আগে মসজিদটি সংস্কার-করাহয়েছে। মাজার এবং মসজিদের মাজখানে সংরক্ষনে রাখা হয়েছে ছফর সংগী হিসেবে ভেসে আসা পাথর। রংঙ্গিন টিনের একটি চারচালা হুজরা খানা এবং এতিমখানা।

স্থানীয় কিংবদন্তী অনুযায়ী প্রায় ৮০০ বছর আগে সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের আমলে হযরত শাহ রুস্তম বাগদাদী নামে এক কামেল দরবেশ ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্যেশে ইয়ামেন থেকে সমুদ্র পথে পাথরে ভেসে এ দেশে আসেন। তিনি ইছামতি নদীর চরে বাঁশের তৈরী মাচানে বসে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করতেন। সেসময় মাচাইন গ্রামে একটি খানকা প্রতিষ্ঠা করেন। খানকার পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ র্নিমান করেন। যা মাচাইন মশজিদ নামে পরিচিত।

হজরত শাহ রুস্তম  অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তার এ অলৌকিক গুণে মুগ্ধ হয়ে এলাকার লোকজন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে হজরত শাহ রুস্তমের অনুসারীরা খানকার আশপাশে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকেন। মাচানের নামানুসারে মাচাইন নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে জানাযায় ।

হজরত শাহ রুস্তম যখন মাচাইন গ্রামে আসেন, তখন কোশী ও তিস্তার স্রোতধারা অবলম্বন করে প্রাচীন ভুবনেশ্বর নদী প্রবহমান ছিল বলে জানা যায়। বিক্রমপুর, সোনারগাঁও, ঢাকা, সাভার ও ধামরাইয়ের সাথে পশ্চিমবাংলা ও পশ্চিম ভারতীয় রাজধানীগুলোর জলপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ অঞ্চল ছিলো মাচাইন গ্রামে।

তৎকালীন স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নদীর ওপর মাচায় বসা ধ্যানরত মহান সাধক হজরত রুস্তম শাহ (রঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে তার নৌকার মাঝি-মাল্লাদের যাত্রাবিরতির নির্দেশ দেন । পরে শাহ্ হজরত রুস্তম শাহ্ (রহ:)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, সুলতান আলাউদ্দিন মুসলিম শাসক ছিলেন। তিনি হজরত রুস্তম শাহের ইসলাম প্রচারে খুবই খুশি হন। এই মহান বুজুর্গ সাধকের প্রতি তার বিশেষ ভক্তি-শ্রদ্ধা বিশ্বাষ বেড়েযায়।  তার শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ এলাকায় ইসলাম প্রচারের সুবিধার্থে ১৫০১ খ্রিষ্টাব্দে এখানে একটি সুরম্য মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তিন গম্বুজবিশিষ্ট নান্দনিক শিল্পে মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্রে প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি, শাহ্ হজরত রুস্তম শাহ্ (রহ:) নামে নাম করণ করেন। 

উপজেলার বাস্তা গ্রামের রমেশ দাস বলেন, শাহ্ হজরত রুস্তম শাহ্ (রহ:) হলেন জিন্দা ওলি। প্রতিবছর ফাল্গুনের ২২ ২৩ তারিখে দুইদিন ওরস হয়। দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ আসে।এখানে জাত-বেজাত নাই। ভক্তদের পদচারনায় তখন মাচাইন এলাকা থাকে মুখরিত। তিনি আরো জানান, প্রথমে মাজারের জায়গা ছিলো কম। মাত্র ৩৩ শতাংশ। কিন্ত মানুষের জায়গা না হওয়ায় এলাকার দুই মামা ভাগ্নে আনোয়ার হোসেন এবং সোনা মিয়া ১৪ শতাংশ জমি মাজারের নামে দান করে দিয়েছে। এখন মাজার দেখাশুনার দায়িত্ব সরকার নিয়েগেছে। ইউএনও এর সভাপতি। মাজারের আয়ব্যায় সরকার নিয়ে যায়। 

মানত করতে আসা লাইলি বেগম বলেন,আমি ওলির দরবারে মানত করেছিলাম। ওনার উছিলায় আল্লা আমার আশা ‍পূরন করেছেন।তাই খুশি হয়ে দরবার জিয়ারত করতে এসেছি। 

গুপালগঞ্জ থেকে আসা মশজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ১৩ বছর যাবত এই মশজিদের ইমাম হিসিবে মাজারের খেদমতে আছি। এখানে প্রতিদিন নারী-পুরুষসহ বিভিন্য ধর্মের মানুষ আসেন।কেহ মানত শারতে আবার কেহ অলির দরবার দেখতে আসেন। বর্ষাকালে এবং শুক্রবারে বেশি মানুষ আসে। এখন করোনার কারনে মানুষ কম আসে বলে জানান তনি।  

বিআলো/শিলি