মলদ্বারে জটিল রোগ: এনাল ফিসারের ইতিকথা 

মলদ্বারে জটিল রোগ: এনাল ফিসারের ইতিকথা 
মলদ্বারে জটিল রোগ: এনাল ফিসারের ইতিকথা 

 

অধ্যাপক ডাঃ মো.আতিয়ার  রহমান :(কলোরেক্টাল ও ল্যাপারস্কপিক সার্জন) 

*এনাল ফিসার আসলে কি?পায়খানার রাস্তায় সমস্যা মানেই এনাল ফিসার বা পাইলস  নয়। এটি সমাজে বহুল প্রচলিত একটি ভুল ধারণা।
*রোগের উৎপত্তি : পায়ুপথে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। 
যেমন এনাল ফিসার, হিমোরয়েড বা পাইলস, ফিস্টুলা, পেরিএনাল এবসেস, পলিপ, রেক্টাল প্রলাপ্স, সলিটরি রেক্টাল আলসার, আলসারেটিভ কোলাইটিস,ক্রোন্স ডিজিজ, হাইড্রাএডেনাইটিস সাপোরেটিভা,পাইলোনিডাল সাইনাস ও ক্যান্সার। সাধারণ মানুষ সব রোগকেই পাইলস মনে করে।  পায়ুপথের বিভিন্ন রোগের মধ্যে একটি হলো এনাল ফিসার অন্যটি হলো পাইলস।

*ভুল ধারণাগুলো কি?
পায়ুপথের বিভিন্ন রোগের মধ্যে লক্ষ্যণের কিছু কিছু মিল থাকলেও চিকিৎসা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন।পায়ুপথ পরীক্ষা অর্থাৎ ডিআরই ও প্রকটোসকপি এবং প্রয়োজনবোধে কোলোনোস্কপি ছাড়া এ ধরনের রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কিন্তু অনেকেই পায়ুপথ পরীক্ষা  নিরিক্ষা  ছাড়াই ঔষধ খেয়ে থাকে যা কোনো মতেই কাম্য নয়। একজন জেনারেল ও কোলোরেক্টাল সার্জনের মাধ্যমে পায়ুপথ পরীক্ষা ছাড়া  অনুমাননির্ভর এসব ঔষধ আপনার শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি ছাড়া কোনো সুফল বয়ে আনে না।
*সতর্কতা হওয়া:
এছাড়াও  চটকধারি বিগ্জাপনে বিভ্রান্ত হয়ে মানুষ  এক ধরনের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে থাকে।  যারা সব রোগেই একই চিকিৎসা দিয়ে পায়ুপথ পুড়িয়ে ফেলে যার ফলে রোগী তীব্র ব্যাথা পায় ও অনেক সময় পায়ুপথ সরু হয়ে যায়।পায়খানার রাস্তার কমন যে রোগ হয় তা কিন্তু পাইলস নয়। পায়ুপথে সবচেয়ে কমন যে রোগ টি হয় তা হলো এনাল ফিসার। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে এবং কিছু কিছু  ক্ষেত্রে যাদের বারবার ডায়েরিয়া হয় তাদের পায়ুপথের মিউকোসা ছিড়ে যায় ফলে পায়খানার গায়ে লেগে রক্ত পড়ে, ব্যাথা ও জ্বালাপোড়া করে।রোগের  তীব্রতাভেদে এটা অল্প সময় থেকে দীর্ঘ সময় থাকে। বারবার এটা হওয়ার ফলে পায়ুপথ থেকে একটা মাংসপিণ্ড এর মতে বের হয় যেটাকে সাধারণ মানুষ গেজ বলে থাকে। কেউ কেউ এটাকেই পাইলস মনে করে। প্রকৃতপক্ষে এটাকে বলা হয় সেনটিনেল ট্যাগ।এ ধরনের সমস্যায় যারা ভুগে থাকেন তাদেরকে প্রথমে আমরা কিছু অভ্যাসগত পরিবর্তন করতে বলি,  এবার গ্রীষ্ম চলছে  রোজা, সারাদিন রোজার পরে যেমন শাকসবজি বেশি করে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ভাজাপোড়া না খাওয়া, গরু চিংড়ি,হাঁস কম খাওয়া ও নিয়মিত ব্যায়াম করা। এছাড়া যেসকল খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য করে সেগুলো পরিহার করা চলা উচিৎ । এর বাহিরে কিছু যেমন জালা পোড়া করলে  অয়েন্টমেন্ট ও ল্যাক্জেটিভ জাতীয় ঔষধ দিয়ে থাকি। এসব অভ্যাসগত পরিবর্তন ও ঔষধের মাধ্যমে রোগী সুস্থ না হলে  তখন অপারেশন এর পরামর্শ দিয়ে থাকি। আর এ ধরনের অপারেশন এ সাফল্যের হার ৯০%। সর্বোপরি বলবো এ ধরনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা দেরী না করে অবশ্যই একজন কোলোরেক্টাল সার্জন এর মাধ্যমে পায়ুপথ পরীক্ষা করে চিকিৎসা ও ঔষধ সেবন করা উচিত। 


(অধ্যাপক ডা.মো.আতিয়ান রহমান  : কলোরেকটাল ও ল্যাপারোসকপিক সার্জন,  চেম্বারঃ ডেল্টা হেলথ কেয়ার,লি:, মিরপুর ১১ বাস  স্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লবী ঢাকা।রোগী দেখেন: বিকেল ৪ টা হতে ৮ টা,শুক্রবার ছুটি। ০১৮১৯-২৪৯৪৩৮, ০১৮৪১-৯১৪৯১৪)

অনুলিখন :জ,ই বুলবুল


বিআলো/শিলি