মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ অটোরিকশা
হাবিব জিহাদী, ভালুকা (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের শিল্পসমৃদ্ধ উপজেলা ভালুকা এখন যেন নিষিদ্ধ যানবাহনের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা অংশজুড়ে প্রতিদিনই অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইঞ্জিনচালিত থ্রি হুইলার, সিএনজি ও বিভিন্ন তিন চাকার যান। পুলিশের চোখের সামনেই এসব যান মহাসড়কে যাত্রী তোলে, দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ। এতে মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, বেড়ে যাচ্ছে দুর্ঘটনা, আর দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৪৭(২) অনুযায়ী মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ। নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশা বা ভ্যান—এসব যানও মহাসড়কে চলাচলের অনুপযোগী ধরা হয়েছে। কিন্তু ভালুকার বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সরেজমিন দেখা যায়, ভালুকা পৌর এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা, সিডস্টোর বাজার, স্কয়ার মাস্টারবাড়ীসহ প্রায় সব পয়েন্টেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনের চাপ। যাত্রী ওঠা–নামার সময় মহাসড়কে হঠাৎ যানজট তৈরি হয়। ধীর হয়ে পড়ে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের গতি। দ্রুতগতিতে অটোরিকশা ছুটতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের মতে, ভালুকা অংশে প্রতিদিন অন্তত দুই হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য তিন চাকার যান মহাসড়কে নিয়মিত চলাচল করছে। এসব যানবাহন চার্জ দিতে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, হাইওয়ে পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা স্থায়ী হয় না। কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। অনেক সময় অভিযানের আগেই খবর পেয়ে চালকরা সরে যায়। অভিযান শেষ হলেই আবার তারা স্বাভাবিকভাবে মহাসড়কে চলাচল শুরু করেন। ফলে এসব অভিযান ‘লোক দেখানো’ বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।
একাধিক চালক জানান, প্রতিদিন ৪৫০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতে হয়। মহাসড়কে বেশি ভাড়া পাওয়া যায় বলে ঝুঁকি নিয়েই তারা মহাসড়কে ওঠেন। এক চালক বলেন, “হাইওয়ে পুলিশ ধরলে ২ হাজার ৬৫০ টাকার মামলা দেয়। কিন্তু মহাজনের সঙ্গে পুলিশের বোঝাপড়া আছে, শেষ পর্যন্ত গাড়ি ছাড়িয়ে আনে।”
অন্য চালকরা জানান, ভেতরের রাস্তায় চালালে দিনে ২০০–৩০০ টাকার বেশি আয় হয় না, যা দিয়ে পরিবার চালানো যায় না। তাই বাধ্য হয়েই মহাসড়কে নেমে পড়েন তারা। বেশ কয়েকজন চালক আবার অভিযোগ করেন, “মাসিক কিস্তি দিলে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। দিলে সমস্যা নাই, না দিলে ধরে।”
এ বিষয়ে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, মহাসড়কে অটোরিকশা ও তিন চাকার যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। ধরা পড়লে মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে মহাসড়কে না ওঠার জন্য চালকদের মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যাদের জীবিকার অন্য উপায় নেই—তাদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ‘মাসিক কিস্তি’ নামে টাকা আদায়ের যে অভিযোগ চালকরা করেছেন—এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, কেউ জড়িত থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের কেউ যদি জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআলো/ইমরান



