মায়ের সাহসেই গ্লামার লুকসের শিরোপা ইয়ামিন ফারশির
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: আরও দূর এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা
হৃদয় খান: দেশের আলোচিত ফ্যাশন রিয়েলিটি শো ‘মিঃ এন্ড মিস গ্লামার লুকস সিজন–৫’-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আলোচনায় এসেছেন ইয়ামিন ফারশি। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ধৈর্য ও মায়ের অকৃত্রিম সাহস—যা তাকে স্বপ্নপূরণের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।
অসংখ্য প্রতিভাবান প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ইয়ামিন ফারশি ও তাজকিয়া যৌথভাবে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জিতে নিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামিন বলেন, “অনুভূতিটা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি কখনো ভাবিনি যে এতদূর আসতে পারব।”
তিনি মনে করেন, ফ্যাশন মডেলিংয়ে টিকে থাকতে হলে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ফিটনেস বজায় রাখা, চলমান ট্রেন্ড সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ফ্যাশন সেন্স ধরে রাখাও সমান জরুরি। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ৪০–৪৫টি শুটে কাজ করেছেন।
ছোটবেলা থেকেই শোবিজে আগ্রহ থাকলেও পরিবারিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্ন বাস্তবায়ন কিছুদিন থেমে ছিল। জন্ম বরিশালে হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। মাত্র সাত–আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। বাবা ব্যবসা করলেও সংসারে সবসময় টানাপোড়েন ছিল। শখ বা ভালো পোশাক কেনা—সবই তখন স্বপ্নের চেয়ে বেশি কিছু ছিল না।
এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তার মা। ইয়ামিন জানান, “মা সবসময় আমাকে সাহস দিয়েছেন। এমনকি ‘মিঃ এন্ড মিস গ্লামার লুকস সিজন–৫’-এ অংশ নেওয়ার রেজিস্ট্রেশনটাও মা নিজেই করেছিলেন।” প্রতিযোগিতার সময় অসুস্থতার কারণে কিছু গ্রুমিং ক্লাসে যেতে না পারলেও মা তাকে উৎসাহ দিয়ে বলতেন চেষ্টা চালিয়ে যেতে। পাশাপাশি নানির দোয়াও ছিল তার অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস।
বর্তমানে ইয়ামিন ফারশি মার্কেটিং বিষয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি শোবিজে নিজের অবস্থান তৈরি করার এই যাত্রাকে তিনি দেখছেন স্বপ্নপূরণের শুরু হিসেবে। সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের ভালোবাসাকে পাথেয় করে সামনে আরও দূর এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাই এখন ইয়ামিনের লক্ষ্য।
বিআলো/তুরাগ



