মৃত ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতি: মাগুরা-২ আসনে মোয়াজ্জেমের মনোনয়ন বাতিল
এস এম শিমুল রানা, মাগুরা: মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করা এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। মাগুরা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে একের পর এক আইনভঙ্গের প্রমাণ মেলায় তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
মোয়াজ্জেম হোসেন ওই শর্ত পূরণের দাবি করলেও যাচাই-বাছাইয়ে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হলে দেখা যায়—একজন ভোটার ইতোমধ্যে মারা গেছেন, সাতজন ভোটার স্পষ্টভাবে স্বাক্ষর দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন, একজন ভোটারের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাত্র একজন ভোটার স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে।
এছাড়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় নিজেকে মাস্টার্স পাস দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত সনদের কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন মোয়াজ্জেম হোসেন। রিটার্নিং অফিসার বলেন, এটি নির্বাচনী আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মৃত ভোটারের স্বাক্ষর ব্যবহার ও ভুয়া শিক্ষাগত তথ্য দিয়ে মনোনয়ন দাখিল কেবল অনৈতিক নয়, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননার শামিল। দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বিআলো/তুরাগ



