যারা জুলাইয়ের রক্তকে সার্থক করতে চান তারা হাতপাখায় ভোট দিন : অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, চাঁদপুর : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেছেন, চব্বিশের জুলাইয়ে বিদ্যমান আইন ও পুরোনো বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে কোটি মানুষ লড়াই করেছে। হাজার তরুণ-বৃদ্ধ-শিশু জীবন দিয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, অন্ধত্ব বরণ করেছে। এতো ত্যাগ ও রক্ত-জীবন উৎসর্গ করার পরেও যারা বিদ্যমান আইন ও পুরোনো বন্দোবস্তে দেশ চালাতে চায় তারা নির্বাচনের আগেই জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। এদেরকে সুযোগ দেয়া যাবে না।
রবিবার চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শায়খুল হাদিস আল্লামা মকবুল হোসাইনের সমর্থনে ফরিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত জনসভায় অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলো। রক্তের সাগর পড়ি দিয়ে স্বাধীনতা আসলেও বিগত দিনে যারা দেশ শাসন করেছে তাদের থেকে আমরা পেয়েছি খুন-গুম-হত্যা, টাকাপাচার। কারণ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশের সংসদে ইসলাম ছিলো না।
আমরা ইসলামের আলোকে দেশ পরিচালনা করার জন্য সমঝোতা করেছিলাম। কিন্তু যাদের সাথে সমঝোতা করেছিলাম তারাও বিদ্যমান আইনেই দেশ চালাবে বলে ঘোষণা দেয়ায় সেই সমঝোতা ত্যাগ করতে হয়েছে। তবে ইসলামের পক্ষে যে একবাক্স নীতি যেটা আমরা নিয়েছি সেটা এখনো অক্ষত আছে।
প্রধান অতিথি আক্ষেপ করে বলেন, পুরোনো আইনেই যদি দেশ চলবে তাহলে আবু সাঈদ, মুগ্ধদের কেন জীবন দিতে হলো? কেন এতোগুলো তাজা প্রাণ উৎসর্গ করা হলো? তাই বলবো, যারা দেশকে ভালোবাসেন, যারা জুলাইয়ের রক্তকে সার্থক করতে চান তারা আগামী নির্বাচনে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিন।
শায়খুল হাদিস আল্লামা মকবুল হোসাইনের মতো আলেম, শিক্ষাবিদ যদি সংসদে থাকে তাহলে কোন চাঁদাবাজ, কোন সন্ত্রাস বাংলাদেশে আশ্রয় পাবে না। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান।
জেলা সভাপতি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনী প্রতিপাদ্য হলো ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’। জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশে গড়তে হলে ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন হাতপাখা মার্কায় ভোট দিন। উপজেলা সেক্রেটারি কেএম হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবু মুসা, হাফেজ মাওলানা বেলাল হোসাইন রাজী, ছাত্রনেতা সোহরাব হোসাইন, জেলা ছাত্রনেতা ডিএম ফয়সাল, জেলা যুবনেতা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মাওলানা ফেরদাউস আল-আজাদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
বিআলো/আমিনা



