রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা শীর্ষক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার

রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা শীর্ষক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মিয়ানমারের পূর্ববর্তী প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়ই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দায় এড়াতে পারে না’ মিজ. ইয়াসমিন উল্লাহ যিনি রোহিঙ্গাদের সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করছেন গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে একথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অতিব জরুরি এবং গণহত্যার দায়ে জড়িত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার করতে হবে।            

নেদারল্যান্ডসের উট্রেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সেন্টার ফর গ্লোবাল চ্যালেঞ্জস (ইউগ্লোব) এবং বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) এর যৌথ উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারটি আয়োজিত হয়েছিল।

কূটনীতিক বিশেষজ্ঞ এবং কফি আনান কমিশনের সাবেক সদস্য, রাষ্ট্রদূত লেটেসিয়া ভ্যান ডেন আসাম বলেছেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আরো কমে গেছে যেহেতু তাদের ওপর গণহত্যা চালানো সামরিক বাহিনীই এখন ক্ষমতায় এসেছে।

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি পরামর্শক ভিনসেন্ট ডি গ্রাফ গাম্বিয়া, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশের পক্ষে তাদের সমর্থন জোরদার করার জন্য ডাচ পার্লামেন্ট সদস্য এবং সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন এবং তিনি নিশ্চিত করেন যে এই ক্ষেত্রে মিয়ানমারের জবাবদিহিতা প্রক্রিয়াটি সমর্থনে তার সরকার আইসিজে এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে দৃঢ়ভাবে সচেষ্ট থাকবে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো এবং হেগের স্থায়ী সালিশি আদালতের সদস্য অধ্যাপক পায়াম আকাভান বলেন, আমাদের অবশ্যই রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য চলমান তদন্তে ধারাবাহিক মনোযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আইসিসি এবং আইসিজে উভয়ই জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত রয়েছে, যা আসলে নজিরবিহীন। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক, যিনি বর্তমানে এনএসইউতে এসআইপিজির প্রফেসোরিয়াল ফেলো হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি জাতিগত নিধন ও প্রতিরোধযোগ্য গণহত্যাকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের সমালোচনা করেন। তারপরও তিনি আশাবাদী যে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আদালতগুলো এখনো রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় কিছু করতে পারে।

এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারটিতে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন উট্রেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবাধিকার আইন ও গ্লোবাল জাস্টিসের সহযোগী অধ্যাপক ড. ব্রায়ান ম্যাকগনিগেল লেহ। উট্রেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল বিভাগের অধ্যাপক সেড্রিক রিঙ্গার্ট এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইন্সিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি)’র পরিচালক এবং ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিকাল সায়েন্স অ্যান্ড সোশিওলজি (পিএসএস)’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক এম. হক ওয়েবিনারটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন। পিএসএস’র সহযোগী অধ্যাপক এবং সিপিএসের সদস্য ড. এম জসিম উদ্দিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। 

বিআলো/ইলিয়াস