শবে বরাতের রাত যেভাবে কাটাবেন: আপনার ফায়দার জন্য
আজই কি জীবনের শেষ শবে বরাত?
ক্ষমার দরজা যখন খোলা, জেগে উঠুন ইবাদতে
ইবনে ফরহাদ তুরাগ: আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র শবে বরাত। এই শবে বরাত আমাদের জীবনের শেষ শবে বরাতও হতে পারে। এটি ক্ষমা ও মুক্তির রাত। তাই অবহেলা না করে অতীতের গুনাহ স্মরণ করে খাঁটি তাওবা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য। এরপর সারারাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকার চেষ্টা করা উচিত—যাতে একটি ছোট আমলও যেন বাদ না পড়ে।
যেভাবে ইবাদত করবেন—
খুব মনোযোগের সঙ্গে অজু করবেন। অজু শেষে কালেমা শাহাদাত পাঠ করবেন। সারারাত সম্ভব হলে অজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করবেন—এতে অনেক সাওয়াব রয়েছে।
মাগরিবের আজান হলে মনোযোগ দিয়ে আজানের জবাব দেবেন। এরপর দুরুদ শরিফ ও আজানের দোয়া পাঠ করবেন। অতঃপর বিনয় ও একাগ্রতার সঙ্গে মাগরিবের ফরজ নামাজ আদায় করবেন। মাগরিবের পর ২ রাকাত করে ৬ রাকাত আওয়াবিন নামাজ আদায় করবেন।
মাগরিব ও আওয়াবিন নামাজের ফাঁকে বা পরে প্রায় ১৫ মিনিট সন্ধ্যার যিকির ও আমল করবেন। এরপর সূরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করবেন।
এশার নামাজের আগ পর্যন্ত ইসলামি বই পড়তে পারেন—বিশেষ করে তাওবা, জান্নাতের নিয়ামত ও জাহান্নামের শাস্তি সম্পর্কিত বই। এতে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং খাঁটি তাওবার অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
এরপর যথাযথভাবে এশার নামাজ আদায় করবেন। এশার নামাজের পর হাদিসে বর্ণিত আমল অনুযায়ী সূরা মুলক পাঠ করবেন এবং অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বারবার তাওবা করবেন। কেননা তাওবাকারী ব্যক্তি পাপহীন ব্যক্তির ন্যায়।
খাবার অল্প খাবেন—অতিরিক্ত খেলে ইবাদতে অলসতা আসে। এই পবিত্র রাতে অপ্রয়োজনীয় গল্পগুজব ও সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকবেন।
শবে বরাত উপলক্ষে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নামাজ ফরজ নয়। তবে নফল ইবাদত করা উত্তম। ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়তে পারেন, যত রাকাত ইচ্ছা। প্রতি দুই রাকাতের মাঝে দোয়া ও তাওবা করবেন।
অন্যান্য আমল—
কুরআন তেলাওয়াত—যত বেশি পড়বেন তত উত্তম
সালাতুত তাসবিহ আদায়
কমপক্ষে ১,০০০ বার দুরুদ শরিফ ও ইস্তেগফার
সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি—১০০ বার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—১০০ বার
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল…—যতবার ইচ্ছা
এই আমলগুলো নফল নামাজের ফাঁকে ফাঁকে করতে পারেন।
সামর্থ্য অনুযায়ী দান–সদকা করবেন। এতিম, গরিব ও বিধবাদের দান করা বিশেষ ফজিলতের।
পুরুষরা কবর জিয়ারত করতে পারেন। নারীরা ঘরে বসে বা দূর থেকে জিয়ারত করবেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) এই রাতে জান্নাতুল বাকিতে জিয়ারত করেছেন।
রাতের শেষ ভাগে (প্রায় ৩টার দিকে) ২ রাকাত করে সর্বোচ্চ ১২ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করবেন। সাহরি খাবেন। বেশি বেশি দোয়া, তাওবা ও দুরুদ শরিফ পাঠ করবেন।
পরিশেষে ফজরের সময় হলে ফজরের নামাজ আদায় করে যিকির ও শেষ মুনাজাতের মাধ্যমে রাতের ইবাদত শেষ করবেন।
সাওয়াবের নিয়তে এই বার্তাটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দিন।
বিআলো/নিউজ



