শারুন-মুনিয়ার যোগাযোগ এক বছর আগেই

শারুন-মুনিয়ার যোগাযোগ এক বছর আগেই

*মীমের চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকার আকতার মোর্শেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার এক পক্ষকাল না যেতেই কলেজ ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্বার করে পুলিশ। শেষোক্ত হত্যা প্ররোচনায় প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের বৃহৎ শিল্প পরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের নাম উঠে আসলেও এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর এই দুটি ঘটনাতেই তোলপাড় আলোচনা চলছে এর নেপথ্যে হুইপ পুত্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে।

আলোচনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুখ খুললেন হুইপ পুত্র শারুন চৌধুরীর স্ত্রী মীম। মীম বলেন, কথাগুলো এভাবে বলতে চাইনি। ভেবেছিলাম এই সময়টাতে নিশ্চুপ থাকবো। কিন্তু আর চুপ থাকতে পারছি না। নিজের উপর লাগামহীনভাবে চলা নির্যাতনের কথা তুলে ধরে হুইপ পুত্রের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন এই নির্যাতিতা নারী।

তিনি বললেন, আমারও আত্মহত্যার উপক্রম হয়েছিল। দিনের পর দিন এমনভাবে শারুণ আমাকে নির্যাতন করেছে, আমিও আত্মহত্যা করতে পারতাম। শুধু আমার সন্তানের কথা ভেবে সব সহ্য করেছি। মীম বলেন, শারুন সংবাদমাধ্যমকে আমার চরিত্র নিয়ে যে কথাগুলো বলেছে, তার সবই মিথ্যাচার। প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধেও শারুন অভিযোগের আঙুল তুললে সাফিয়া রহমান মীমের সম্প্রতি পরপর দুটি আত্মহত্যা প্ররোচনার নেপথ্য সম্পৃক্ততায় নাম উঠে আসে চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পুত্র নাজমুল হক চৌধুরী প্রকাশ শারুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ না যেতেই ব্যাংকার আকতার মোর্শেদ চৌধুরীর আত্মহত্যা প্ররোচনায় জড়িত অভিযুক্তদের সহযোগী হিসেবে শারুনের নাম উল্লেখ করেন ওই ব্যাংকারের স্ত্রী। 

একাধিক সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমকে প্রদত্ত বক্তব্যে ব্যাংকারের স্ত্রী শিক্ষিকা ইশরাত জাহান চৌধুরী তাঁর স্বামীকে আত্মহত্যা প্ররোচনায় মানসিক নির্যাতন, হুমকি প্রয়োগসহ নানাভাবে পরিস্থিতি তৈরি করার পেছনে হুইপ পুত্রের সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরেন।

ঠিক ওই ব্যাংকারের আত্মহত্যার এক পক্ষকাল না যেতেই ঢাকায় দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্বার করে পুশিশ। এই  হত্যা প্ররোচনায় প্রথমে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এর নাম উঠে আসলেও এখন এই ঘটনায় তোলপাড় আলোচনা চলছে এর নেপথ্যে হুইপ পুত্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে।

উপর্যুপরি এমন দুটি আত্মহত্যা প্ররোচনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যখন আলোচনায় তুঙ্গে, ঠিক তখনই শারুনের সাবেক স্ত্রী মুখ খুললেন। ২০১৩ এর ২৩ সেপ্টেম্বর শারুন ও মীমের বিয়ে হয়। এর পরের বছর ২০১৪ এর ২৪ জুন তাদের একমাত্র সন্তান, কন্যা সাইশা করিম চৌধুরীর জন্ম। অতঃপর শারুন চৌধুরী কর্তৃক উপর্যুপরি মানসিক শারীরিক নির্যাতন, বিচ্ছেদে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত সংসার টিকিয়ে রাখতে না পারা, একমাত্র শিশু সন্তানকে আটকে রাখা, মৃত্যু হুমকি এবং আত্মহত্যা করার মতো অবস্থা তৈরীর হুংকার দেয়া সহ ঠিক অবর্ণনীয় ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরেন মীম।
কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ বাসা থেকে উদ্বারের পর মৃত্যুর আগে ওই শিক্ষার্থীর সাথে শারুনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এর স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়। মীম জানালেন, শারুন সংবাদমাধ্যমকে আমার চরিত্র নিয়ে ডাহা মিথ্যা কথা বলছেন। সে আমাকে নির্যাতন করছিল মা-বাবার সামনেই। আমার প্রতি নির্যাতনের কথা ওই বাড়ির  আত্মীয়-স্বজন প্রায় সবাই জানতেন। পটিয়ায় ওদের গ্রামের বাড়ির সবাই সবাই জেনেছিলেন। শারুন মেরে আমার মুখ থেঁতলে দিয়েছিল। আমি সেই অবস্থাতেই ঢাকার বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি যাই। মীম বলেন, ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। বুঝিনি শারুন এত বদরাগী।তার ভয়াবহ নির্যাতনের অনেক তথ্য প্রমাণ আমার কাছে আছে। সময় হলেই সব প্রকাশ করব। 

বিআলো/ইলিয়াস