শেখ হাসিনার দুর্গ বিজয়ে মরিয়া সমমনা ইসলামী জোটের রিক্সা মার্কার প্রার্থী আ: আজিজ মক্কী
অংকন তালুকদার, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারায় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সব প্রার্থী কিন্তু সমান ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি ভোটের মাঠে।
দক্ষতা ও ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন প্রার্থী ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া- টুঙ্গিপাড়া) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত মুফতি আবদুল আজিজ মাক্কী লড়বেন রিক্সা মার্কায়।
গোপালগঞ্জ-৩ (আসন নং ২১৭)_গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা এবং কোটালীপাড়া উপজেলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী নিশ্চিত করায় এখন নির্বাচনী মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা আ: আজিজ মক্কী আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্বাধীনতার পর থেকেই গোপালগঞ্জ ছিল আওয়ামী লীগের দুর্গ। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রতিবারই প্রতিদ্বন্দ্বিরা এখানে জামানত হারান। কেবল একবার উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতির পালাবদল ঘটায় আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত সমমনা ইসলামী দলগুলোর ১০ দলীয় জোট কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ-৩ আসনটি শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন জেলা জামায়াতের আমীর এম এম রেজাউল করিম।
গত বছর জুলাই বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। হাসিনা ভারতে অবস্থান করায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা গ্রেফতার কিংবা আত্মগোপনে চলে যান। ফলে এলাকায় তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। সেই সাথে সক্রিয় হয়ে ওঠে জামায়াত জোট। ইতোমধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌর সম্মেলন সম্পন্ন করে নতুন নেতৃত্ব গঠন করেছেন তারা। নেতাকর্মীরা নিয়মিত হাটে-বাজারে রিক্সা মার্কার গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। গণসংযোগ সমাবেশ গুলোতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতিও। বলতে গেলে এসব প্রার্থীরা বিজয়ের জন্য এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর এম এম রেজাউল করিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল সংগঠন, যেখানে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল ও জোটের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বলে জানান। এ সিদ্ধান্তে তার কোনো ধরনের অনুযোগ বা অসন্তোষ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী হিসেবে যে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি মাঠে কাজ করেছেন, একইভাবে এখন জোটের রিক্সা মার্কার প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতেও তিনি এবং তার দল সর্বোচ্চভাবে কাজ করবে।
এ বিষয়ে জোটের প্রার্থী আ. আজিজ মক্কী বলেন, ন্যায়-ইনসাফের ক্ষেত্রে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সবার জন্য আমি সমানভাবে কাজ করব। নির্বাচিত হলে যুবকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে নিয়োজিত করা হবে। যুবকদের মধ্যে কেউ বেকার থাকবে না। ইসলামি মূল্যবোধ ও মানুষের কল্যাণে দল যে ভূমিকা প্রত্যাশা করে, তিনি সেই দায়িত্বই পালন করে যেতে চান। নির্বাচিত হলে শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে পাশে থাকব। তিনি রিক্সা মার্কায় ভোট চান।
পরিশেষে তিনি বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ, ইসলামি বক্তা, লেখক ও অধ্যাপক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের সুস্বাস্থ্য সার্বিক সাফল্যের জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন।
বিআলো/তুরাগ



