স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে শেষ হলো মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে শেষ হলো মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুখে মাস্ক ছিল। তবে ছিল না সামাজিক দূরত্ব। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে ও পরে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পাঁচটি কেন্দ্রে এ চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীসহ দেশের ১৯টি পরীক্ষাকেন্দ্রের ৫৫টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যানটিন-সংলগ্ন প্রধান গেটটি বন্ধ রেখে শুধু পকেট গেট খোলা রাখা হয়। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থী ও
অভিভাবকদের সরু পকেট গেট দিয়ে ঠেলাঠেলি করে বের হতে দেখা গেছে। কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বললেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়নি। প্রধান গেটটি খোলা থাকলেও বের হওয়ার সময় এতটা গাদাগাদি হতো না।

রাজধানীর বকশীবাজারে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বাইরেও প্রচণ্ড ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অভিভাবকদের। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করাতে দেখা যায়নি। শুধু তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষকদের হাতে এক বোতল করে স্যানিটাইজার দেওয়া ছিল। লম্বা বেঞ্চের দুই প্রান্তে দুজন করে পরীক্ষার্থীকে বসানো হয়েছিল।

পলাশীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরেও পরীক্ষা শুরুর আগে-পরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। চট্টগ্রামের ৭টি ভেন্যুতে পরীক্ষা দিয়েছেন ১০ হাজার ৯০৫ জন। চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ভেন্যুতে গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড ভিড় করে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছেন অভিভাবকেরা।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এই হিসাবে এ বছর আসনপ্রতি ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ৪৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসনসংখ্যা ৪ হাজার ৩৫০টি। এ ছাড়া ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসনসংখ্যা ৬ হাজার ৩৪০টি।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা সুষ্ঠুুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। পরিদর্শক টিম পরীক্ষার দিন কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা গত বছর অনুষ্ঠিত হয়নি। সংক্রমণ কমলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময়সূচি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

২১ মার্চ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেন রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা তৈমুর খান নামের এক ব্যক্তি। ২৪ মার্চ রিটটি হাইকোর্টে খারিজ করে দেওয়া হয়।

বিআলো/শিলি