সেবায় সেরা ঢাকা রেঞ্জ

সেবায় সেরা ঢাকা রেঞ্জ

সুমন সরদার: হয়রানি ও ভয়ভীতি মুক্ত সেবা নিশ্চিত করে পুলিশি সেবায় সেরা অবস্থানে রয়েছে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ। ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক হাবিবুর রহমানের জনকল্যাণমুখী নানান বিশেষ উদ্যোগে বদলে যায় সেবার মান।

পুলিশি সেবা জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গেল বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা রেঞ্জে অত্যাধুনিক ‘অপারেশন্স, কন্ট্রোল এন্ড মনিটরিং সেন্টার’ স্থাপন করা হয়। রেঞ্জের ১৩টি জেলার ৯৬টি থানা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে মনিটর করার জন্য ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়।

থানা-পুলিশের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে বসানো হয় এসব সিসিটিভি। ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে থানাগুলোর ডিউটি অফিসার, হাজতখানা ও নিরাপত্তারক্ষীর অবস্থান। এছাড়া ঢাকা রেঞ্জের থানাগুলোতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নথিভুক্ত হওয়া সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার কার্যক্রম শুরুর আগেই পাঠানো হয় সার্কেল অফিসে।

প্রত্যেক সার্কেল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখেন কোন জিডি বা মামলা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত। এরপর গুরুত্বপূর্ণ জিডি ও মামলার কপি অভিযোগকারীর মোবাইল নম্বরসহ নির্দিষ্ট ছক পূরণ করে বেলা ১১টার মধ্যে তিনি বিভাগীয় প্রধানের (ডিআইজি) অফিসে পাঠিয়ে দেন। ডিআইজি অফিস থেকে শুরু হয় তদারকি।

ডিআইজি অফিসের তদারকি সেল সাধারণ ডায়েরি বা মামলার বাদীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে থানার সেবার মান সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় আরো জানতে চাওয়া হয়, সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করতে কোনো টাকা নেওয়া হয়েছে কি না? সেবাপ্রত্যাশীর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে কি না, মামলা বা জিডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত করতে এসেছিলেন কি না, তদন্ত করতে এসে কোনো ধরনের খরচের টাকা নিয়েছেন কি না, এমনকি  সেবাপ্রত্যাশী যে কারণে জিডি করেছেন সেই সেবাটি তিনি পেয়েছেন কি না?

এছাড়া ঢাকা রেঞ্জ এলাকায় একযোগে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় চালানো হচ্ছে সচেতনতা কার্যক্রম। প্রতিটি থানার ওসিরা জনসাধারণের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করে তুলছেন স্থানীয় জনসাধারণকে।  ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন ১৩টি জেলা, ৪৩টি সার্কেল ও ৯৬ থানা ফেসবুকে উন্মুক্ত করেছে মোট ১৫৩টি পেজ। কোনো বিপদ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেই এই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে সেবাপ্রত্যাশীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারছেন। পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই ঢাকা রেঞ্জের সব ইউনিটের পক্ষ থেকে ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান। ঢাকায় রেঞ্জ অফিস থেকে এসব পেজে সাধারণ জনগণ কী ধরনের সেবা চাচ্ছেন বা কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যে তা না পেলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসছে, তা মনিটর করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিট ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাওয়া হচ্ছে। একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলের সমন্বয়ে উন্মুক্ত ফেসবুক পেজে জনগণের মতামত ও মনোভাব জেনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আলাদা টিম কাজ করছে বলে জানান ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) মাহবুবুর রহমান।

বিআলো/ইলিয়াস