স্বতন্ত্রের সরকার গঠনে ঐতিহাসিক ঘোষণা, নেতৃত্বে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন
রুবিনা শেখ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোটবদ্ধভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে জোটবদ্ধভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে—এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার সকালে রাজধানীর তেজকুনিপাড়া বিজয় স্মরণীতে অবস্থিত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এই জোটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে একটি “স্বতন্ত্রের সরকার” গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বাগেরহাট–৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন–সংগ্রাম, মামলা–হামলা ও দমন–পীড়নের মুখেও তিনি কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জীবন, সময় ও সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া এই নেতা স্বতন্ত্র রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এই ঐক্য সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়; বরং জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।”
সংগঠনের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. আব্দুর রহিম জানান, বর্তমানে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীর সংখ্যা ৪৭৩ জন এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দল থেকে আরও অন্তত ১০০ জন প্রার্থী এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য ৩০০ জন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে সারাদেশের ৮টি বিভাগকে ১০টি সাংগঠনিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনে বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। এই সাংগঠনিক কাঠামো বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সমন্বয় ও গণসংযোগে কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের ভূমিকা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নির্বাচনী প্রতীক প্রসঙ্গে জানানো হয়, জোটবদ্ধ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ফুটবল ও মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তবে জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কেন্দ্রীয়ভাবে গণসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম জোরদার করতে ফান্ড রেইজিং কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী পর্যায়ে চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম নগদ ১০ হাজার টাকা এবং ঢাকার উত্তরখান মৌজায় তিন কাঠা জমি দান করেন। এছাড়া কাজী খায়রুজ্জামান শিপনসহ একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।
দেশবাসী ও প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যারা প্রকৃত পরিবর্তন চান, জনগণের ক্ষমতায়ন দেখতে চান এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যর্থতায় হতাশ—তারাই স্বতন্ত্রের সরকারের মূল শক্তি। ভোট, অর্থ ও ভালোবাসা দিয়ে এই আন্দোলনের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষা, দুর্নীতির বিচার, অর্থ পাচার রোধ, সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিক ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসন, সংস্কারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন এবং ইনসাফভিত্তিক জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, “গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমেই জনগণের কাছে স্বতন্ত্রের সরকার প্রতিষ্ঠার বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।” তিনি সকল প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিআলো/তুরাগ



