হংকংয়ে বাংলাদেশের মিশনের সাইনবোর্ড থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নাম মুছে ফেলার দাবি

হংকংয়ে বাংলাদেশের মিশনের সাইনবোর্ড  থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নাম মুছে ফেলার দাবি

হংকং প্রতিনিধি :১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল খুনিদের নাম হংকং সহ সকল বাংলাদেশের মিশনের সাইনবোর্ড থেকে মুছে ফেলার জন্য বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন হংকং প্রবাসীরা। জানা গেছে, হংকং কনসুলেট এ মেজর ডালিম এবং নুর চৌধুরীর নাম রয়েছে।

 

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ছয় খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর হলেও বিদেশে পালিয়ে থাকা পাঁচজনকে দেশে ফিরিয়ে আনা এখনো সম্ভব হয়নি। এই পাঁচ খুনির দুজনের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে। অপর তিনজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের নিজস্ব আইন পলাতকদের ফেরানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে একদিকে এসব ঘাতক যেমন অধরাই রয়ে যাচ্ছে তেমনই এদের পাওয়ার অপেক্ষায়ই থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, গোপনীয়তার কারণে এ মুহূর্তে পলাতকদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বশেষ তথ্য জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। এরপর খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয় পরবর্তী সরকার। শুধু তা-ই নয়, খুনিদের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়।

 

সামরিক সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে খুনিরা রাজনৈতিক দল গঠন করে অনেক অপকর্ম করে। কোনো কানো খুনি এমপিও হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে করা ইমডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালে ১২ খুনির মধ্যে পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

 

তারা হলো : কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) একে বজলুল হুদা এবং মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন (আর্টিলারি)। আর গত বছরের ১১ এপ্রিল রাতে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। বাকি ছয়জনের মধ্যে আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে।

 

এখনো অধরা ৫ খুনি : বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান। গ্রেফতার বা প্রত্যর্পণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পাকিস্তান, লিবিয়াসহ আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বারবার অবস্থান বদল করেছে খুনিরা।