অস্ত্র দান নয়, বিক্রির ফন্দি: ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধনীতি
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন একটাই: কে দেবে ইউক্রেনকে এই মূল্যবান অস্ত্রসজ্জা, এবং কবে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি ইউক্রেনকে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার বিষয়ে যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, তা নিছক মানবিক সহায়তা নয় বরং এক চতুর ব্যবসায়িক কৌশল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ইউক্রেনকে দিচ্ছেন না। বরং তিনি ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের উৎসাহিত করছেন, তারা যেন নিজেদের প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ইউক্রেনকে দিয়ে দেন—এরপর সেই ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন সিস্টেম কিনে নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কৌশল থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি কোনো পক্ষের হয়ে যুদ্ধ করছেন না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
“এটাই হলো এক ব্যবসায়ীর বুদ্ধি,” বলছেন একজন পশ্চিমা কূটনীতিক।
প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের কার্যকারিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। ইউক্রেনের শহরগুলোকে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষায় এই ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অস্ত্র পেতে ইউক্রেন উদগ্রীব—আর ট্রাম্প সেটাকেই টার্ন করছেন কৌশলগত লেনদেনে।
১৪ জুলাই দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ন্যাটোর জন্য সেরা অস্ত্র তৈরি করছি।” তিনি আরও জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই কিছু প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ইউক্রেনে পৌঁছাবে। তবে এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তার নিজের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের কয়েকজন নেতাই বিরোধিতা করেছেন।
ট্রাম্পের এই অবস্থান তার পূর্বের রুশপন্থী ভাবনার বিরোধী বলে মনে করছেন অনেকে। একসময় পুতিনের প্রশংসা করলেও এখন ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে একাট্টা হয়ে আগ্রাসী সামরিক সহায়তার কাঠামো গড়ার দিকে যাচ্ছেন।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণাটি এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়—এটি একটি কাঠামো বা প্রস্তাব, যার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাড়া এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর।
এর মধ্যে ছয়টি ন্যাটো দেশ—ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস এবং কানাডা—এই প্রকল্পে অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এই তথ্য নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কিছু দেশ জানিয়েছে, তারা আগে থেকে কিছুই জানতো না।
বিআলো/তুরাগ