২০০ প্রাণ কেড়ে আজারবাইজান-আর্মেনিয়ায় যুদ্ধবিরতি

২০০ প্রাণ কেড়ে আজারবাইজান-আর্মেনিয়ায় যুদ্ধবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া। আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টার মাথায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে নাগোরনো-কারাবাখ কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার শান্তিরক্ষা মিশনের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে তারা।

নাগোরনো-কারাবাখে অবস্থিত রুশ শান্তিরক্ষা মিশনের কমান্ডের মধ্যস্থতায় গতকাল দুপুর ১টা থেকে সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধের বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছে আজারবাইজান।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা এএফপি ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগোরনো-কারাবাখের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী আর্মেনিয়ান মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা বলেছেন, আজারবাইজানীয় সামরিক আক্রমণের ফলে সেখানে কমপক্ষে ২০০ জন নিহতসহ কয়েকশ মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে নাগোরনো-কারাবাখ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আজারবাইজানের অংশ। তবে সেখানে বসবাস করে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী জাতিগত আর্মেনিয়ানরা।

আজারবাইজানের অভিযোগ প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়ার সহযোগিতা নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে নিজেদের সংগঠিত করছিল সেখানকার বাসিন্দারা।

বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কয়েক দশক ধরে বিবাদে লিপ্ত রয়েছে। নাগোরনো-কারাবাখ আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত হলেও ১৯৯৪ সালের এক যুদ্ধের পর থেকে আর্মেনিয়ার সমর্থনে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনী ওই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

ইতোমধ্যে নাগোরনো-কারাবাখ ঘিরে দুই প্রতিবেশী আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া অন্তত দু’বার যুদ্ধে জড়িয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর প্রথমবার যুদ্ধে জড়ায় দেশ দুটি।

সাবেক সোভিয়েতভুক্ত এ দুই রাষ্ট্র বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে ২০২০ সালে ফের প্রাণঘাতী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। দুই দেশের সেনাদের হামলা-পাল্টা হামলায় সেই যুদ্ধে উভয়পক্ষের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এদিকে কারাবাখ অঞ্চলের অন্য কোনো মর্যাদা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, আজারবাইজানীয়দের ভূখণ্ড কারাবাখ। এ কথা সবাই জানে।

নিউইয়র্কে মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান বলেন, আমরা শুরু থেকেই আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছি। তবে এখন দেখতে পাচ্ছি যে আর্মেনিয়া এই ঐতিহাসিক সুযোগটি পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেনি।

বিআলো/শিলি