অনুভব মাহাবুব: ২৫০ নাটকের অভিজ্ঞতায় শোবিজে অদম্য পথচলা
হৃদয় খান: বাংলাদেশি টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ অভিনেতা অনুভব মাহাবুব। একক ও ধারাবাহিক নাটক মিলিয়ে প্রায় আড়াই শতাধিক নাটকে অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছেন। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার পাশাপাশি নির্মাতা ও সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে নাট্যাঙ্গনে তৈরি করেছেন শক্ত অবস্থান। দীর্ঘ এই পথচলার গল্প, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্নের কথা জানতেই সম্প্রতি কথা হয় এই অভিনেতার সঙ্গে।
আপনি এ পর্যন্ত কতগুলো নাটকের কাজ করেছেন?
উত্তরে অনুভব মাহবুব বলেন, একক নাটক এবং ধারাবাহিক নাটক সহ এ পর্যন্ত আমি ২৫০টির মতো নাটকে অভিনয় করেছি।
এত বিপুল সংখ্যক নাটকে অভিনয় করে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, এ বিষয়ে কিছু বলবেন!
উত্তরে তিনি বলেন, এতগুলো নাটকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। নিজেকে বিভিন্ন চরিত্রে রূপান্তরিত করতে পেরেছি। অনেক পরিচালক এর সঙ্গে কাজ করে অভিনয় আরও উন্নত করার সুযোগ পেয়েছি।
কোন কোন নায়িকার সঙ্গে কাজ করেছেন?
উত্তরে তিনি বলেন, আমার প্রথম নাটক ‘৬৯’ এ আমার নায়িকা ছিলেন শ্রাবস্তি দত্ত তিন্নি। দ্বিতীয় নাটক ‘রাস্তায়’ প্রভা আমার নায়িকা ছিলেন। এরপর আরও অনেক নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছি।
কোন নায়িকাকে কখনো প্রপোজ করেছেন কি?
উত্তরে তিনি হেসে বলেন, “না, সেভাবে কাউকে প্রোপজ করা হয়নি।
কোন নায়িকার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আপনার নায়িকা কে মনে ধরেছে?
উত্তরে তিনি বলেন, যখন যার সঙ্গে কাজ করি তখনই তাকে ভালো লাগে। মনে না ধরলে তো অভিনয় ফুটিয়ে তুলতে কষ্ট হয়।
নায়ক-নায়িকাদের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকলে অভিনয়ও ভালো হয়।
নাটকের সবচেয়ে বড় সংকট কি আপনার দৃষ্টিতে? পারিশ্রমিক না কন্টেন্টের জন্য?
উত্তরে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সংকট হলো ভালো গল্প। এখনকার নাটকে ভালো গল্পের খুব অভাব।
শোবিজে আপনার পথচলার শুরুটা কেমন? প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
উত্তরে তিনি বলেন, শ্রদ্ধেয় পরিচালক মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী ভাই এর হাত ধরে আমার অভিনয় জীবন শুরু। ‘৬৯’ নাটকে আমি প্রথম অভিনয় করি। প্রথম নাটকে বাংলাদেশের সেরা সব অভিনয় শিল্পীর সঙ্গে এক ফ্রেমে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। এটা আমার সারাজীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা।
ছোটবেলা থেকেই কি অভিনয় বা মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছা ছিল, নাকি হঠাৎ করেই এই জগতে আসা?
উত্তরে তিনি বলেন, ছোটবেলায় স্কুলে সাংস্কৃতিক সবকিছুতে অংশ নিতাম—অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা সবকিছু। তখন থেকেই আমার সাংস্কৃতিক পদযাত্রা শুরু।
একজন অভিনেতা হিসেবে শোবিজে নিজের জায়গা তৈরি করা কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে?
উত্তরে তিনি বলেন, শোবিজের নিজের জায়গা করে নেওয়া অনেক কঠিন। সবসময়ই লড়াই করতে হয়। এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
ক্যামেরার সামনে কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় শেখাটা কী পেয়েছেন?
উত্তরে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় শেখা হচ্ছে সবসময়ই নতুন কিছু শিখতে হবে। শিক্ষার কোন শেষ নেই।
বর্তমানে কোন কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন?
উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে ফরিদুল হাসান পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘মহল্লা’, মুহিন খান পরিচালিত ‘বিবাহিত বনাম অবিবাহিত’, বাপ্পি খান পরিচালিত ‘টানাপোড়েন’, সাজিন আহমেদ বাবু পরিচালিত ‘স্বভাব দোষে’, মুহিন খান পরিচালিত ‘মুদি দোকানদার’ ও ‘ঘরের নেত্রী’ নাটকে ব্যস্ত।
কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনি কী বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেন?
উত্তরে তিনি বলেন, কাজ বাছাইয়ের সময় গল্পটা আগে ভালোভাবে জেনে নেই, তারপর চরিত্রটা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করি।
মিডিয়ায় কাজ করতে গিয়ে দর্শক বা সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া কোন প্রতিক্রিয়াটা সবচেয়ে অনুপ্রাণিত করেছে?
উত্তরে তিনি বলেন, দর্শকরা যখন আমার অভিনীত কোনো চরিত্রের নাম ধরে ডাকেন, তখন সবচেয়ে ভালো লাগে। এটাই আমাকে উৎসাহ দেয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেকে আরও কোন দিক দিয়ে তৈরি করতে চাইছেন?
উত্তরে তিনি বলেন, “শুধু অভিনয়কে মনোযোগ দিয়ে করতে চাই। অন্য কিছু করতে চাই না।
একজন অভিনেতা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা কী?
উত্তরে তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন একটা ভালো সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা।
শোবিজে কাজ করতে গিয়ে পরিবার কতটা সাপোর্টিভ?
উত্তরে তিনি বলেন, আমার পরিবার সবসময়ই আমাকে সমর্থন করেছে।
এই ইন্ডাস্ট্রিতে যাদের কাজ আপনাকে অনুপ্রাণিত করে, তাদের নামগুলো কি বলতে পারেন?
উত্তরে তিনি বলেন, “শ্রদ্ধেয় অভিনেতা মামুনুর রশীদ, হুমায়ূন ফরিদী, আফজাল হোসেন, তারিক আনাম, জাহিদ হাসান, শহিদুজ্জামান সেলিমসহ আরও অনেক।
বিআলো/তুরাগ



