• যোগাযোগ
  • অভিযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    অ্যাম্বুলেন্স সংকটে কারাগারে নীরব মৃত্যু: পাঁচ বছরে প্রাণ গেল ৫০৯ বন্দির 

     dailybangla 
    19th Jan 2026 11:38 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    পাঁচ বছরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যু অর্ধ-সহস্র, চিকিৎসক আছেন মাত্র দুইজন

    রতন বালো: দেশের কারাগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক সংকটের কারণে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। অসুস্থ বন্দিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় গত পাঁচ বছরে অন্তত ৫০৯ জন বন্দি হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা গেছেন। কারা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর বড় কারণ সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা।

    কারা অধিদপ্তরের তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে সারাদেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৮৪ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ৮১ হাজার ৫৮১ জন এবং নারী বন্দি ২ হাজার ৮৯৯ জন। বন্দিদের একটি বড় অংশ বিচারাধীন হাজতি, যাদের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৪৭৮ জন। এছাড়া সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছেন ২১ হাজার ২ জন। বিপুল এই বন্দি জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল।

    কারাগার থেকে অসুস্থ বন্দিদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বর্তমানে সারাদেশে কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২৭টি। ঢাকায় রয়েছে ৩টি, গাজীপুরে ৪টি এবং অন্যান্য কয়েকটি জেলায় একটি করে অ্যাম্বুলেন্স। অনেক কারাগারেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। আবার যেসব কারাগারে আছে, সেগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো ও নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। ফলে গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের অনেক সময় বাধ্য হয়ে রিকশা, ভ্যান কিংবা পিকআপে করে হাসপাতালে নিতে হয়।

    এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থার কারণেই বহু বন্দি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারাচ্ছেন। কারা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৮৯ জন বন্দির মৃত্যু হয়। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮৪ জন। ২০২৩ সালে পথে মারা যান ১৪৩ জন এবং ২০২৪ সালে ১২৯ জন বন্দি। গত বছর এভাবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৬৪ জন বন্দির মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৯ জনে।

    কারা অধিদপ্তরের এআইজি প্রিজন (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ অ্যাম্বুলেন্স সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দেশের প্রতিটি কারাগারে অন্তত একটি করে অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। তিনি জানান, বন্দিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ৯৭টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ব্যয় সংকোচনের অজুহাতে সেই সংখ্যা কমিয়ে ৪৭টিতে নামিয়ে আনা হয়। তবে প্রস্তাবটি অনুমোদন না পাওয়ায় গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এখনো সংশ্লিষ্ট ফাইল মন্ত্রণালয়ে ঝুলে রয়েছে।

    অ্যাম্বুলেন্স সংকটের পাশাপাশি কারাগারগুলোতে চরম চিকিৎসক সংকটও রয়েছে। কাগজে-কলমে কারাগারে চিকিৎসকের পদ আছে ১০৩টি। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে মাত্র ২ জন সার্বক্ষণিক চিকিৎসক কর্মরত আছেন। তাদের একজন মানিকগঞ্জ কারাগারে এবং অন্যজন রাজশাহী ট্রেনিং সেন্টারে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংকট মোকাবিলায় কারা কর্তৃপক্ষ জেলা হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে অস্থায়ীভাবে বা প্রেষণে চিকিৎসক এনে কাজ চালাচ্ছে।

    বিশেষ করে রাতে কোনো বন্দি গুরুতর অসুস্থ হলে চিকিৎসক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন সংকটাপন্ন অবস্থায় রিকশা, ভ্যান কিংবা পিকআপে করে বন্দিদের নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই বিলম্ব ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার কারণে শেষ রক্ষা হয় না।

    চিকিৎসক সংকট নিরসনে ২০২৩ সালে হাইকোর্ট কারাগারের ১৬টি শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কারা মহাপরিদর্শককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি।

    বর্তমানে দেশের প্রতিটি কারাগারে একটি করে হাসপাতাল থাকলেও সেগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুরের সরকারি হাসপাতালে মোট সাতটি প্রিজন সেল রয়েছে। অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে প্রিজন সেল স্থাপনের প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    অপরাধবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসার অভাবে বন্দিদের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। একই সঙ্গে যেসব কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ, চিকিৎসক নিয়োগ এবং কারাগারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে, যা রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

    বিআলো/তুরাগ

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    M T W T F S S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031