আওয়ামী লীগ থেকে আসা নেতাদের দখলে সাভার কলেজ ছাত্রদল: সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
সাভার কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে বিতর্ক: সভাপতি ইমু ইমরানের পদ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ
নিজস্ব প্রতিবেদক: হাতে ক্ষমতা আর পকেটে টাকা থাকলেই আওয়ামী লীগ থেকে দল পাল্টে বিএনপির ছাত্রদলের পদ পাওয়া যায়—এমন অভিযোগ উঠে সাভার কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইমু ইমরানের ক্ষেত্রে। ইমু ইমরান পূর্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি সাভার কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পদে বহাল আছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার বড় ভাই ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় পারিবারিক প্রভাবেও তিনি পদে টিকে আছেন।
ছাত্রদল কমিটিতে আওয়ামী লীগের প্রভাব
সাভার সরকারি কলেজ, ধামরাই সরকারি কলেজ ও কুশুরা নবযুগ ডিগ্রি কলেজের ছাত্রদল কমিটিতে বহু আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা-কার্যকর্তার নাম রয়েছে। ধামরাই সরকারি কলেজ ছাত্রদল কমিটিতে সভাপতি ফাহাদ ও সাধারণ সম্পাদক শশী—উভয়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত এবং সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পদ দেওয়া হয়েছে টাকা লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে।

শিক্ষার্থীদের হতাশা ও অভিযোগ
প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত সাভার সরকারি কলেজে প্রকৃত ছাত্রদল কর্মীদের বাদ দিয়ে ইমু ইমরানকে সভাপতি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে পদে বহাল রাখা হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিককে হুমকির ঘটনা
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং অনিয়মের প্রতিবেদন প্রকাশের পর দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার দিলশান আরা অনিমা ইমু ইমরান ও মাহফুজ ইকবাল দ্বারা অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকির শিকার হন। এ ঘটনায় ১০৭ ধারায় মামলা (নম্বর-৩৯৯) দায়ের হয়েছে। দিলশান আরা বলেন, দুর্নীতি করেও যখন বহাল তবিয়তে থাকেন অপরাধীরা তখন তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মুখ খুলতে হয় বৈকি…..
https://www.facebook.com/share/v/1FNbvSauPx/
কলেজ ছাত্রদলের অন্তর্দৃষ্টি
শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ইমু ইমরান ধামরাই সরকারি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাশ করে ২০২৫ সালের ১১ মার্চ সাভার সরকারি কলেজে ভর্তি হন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, ২৬ মার্চ তাকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তারা অভিযোগ করেছেন, এ পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কর্মী সম্মেলন বা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়নি।
কমিটির সহ-সভাপতি ইমরান হাসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিচওয়াল দেওয়ানকেও একই অভিযোগের মধ্যে আনা হয়েছে। কলেজে প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন উন্মুক্ত বিভাগের শিক্ষার্থী।
অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, কমিটি গঠনে চাঁদাবাজি ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে পদ বিতরণ হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, “ছাত্রদলের গৌরবময় ঐতিহ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ। যখন নেতৃত্বে থাকবে উন্মুক্ত শিক্ষার্থী ও স্বজনপ্রীতি ভিত্তিক সুবিধাভোগী, তখন ছাত্রদলকে আদর্শিক সংগঠন বলা কঠিন।”
শিক্ষার্থীদের আহ্বান
সাভার সরকারি কলেজ ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং বর্তমান সভাপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হোক। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, যদি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সাভার সরকারি কলেজে ছাত্রদলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।
বিআলো/তুরাগ