আফগান শরণার্থীদের জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে আফগান শরণার্থীদের ওপর ধরপাকড় আরও জোরদার হওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে আফগানিস্তানে। টারখাম সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ফিরছে শত শত পরিবার, যাদের অনেকেই পাকিস্তানে কাটিয়েছেন কয়েক দশক। তাদের মধ্যে অনেকেই নতুন করে সব শুরু করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
আরব নিউজ পাকিস্তানের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রতিদিন ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ধূ ধূ সীমান্তে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন হাজারো মানুষ। এতকাল যে ভূমিতে নিজেদের সংসার গুছিয়ে বসেছিলেন, সেখান থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হচ্ছে তাদের। পাকিস্তানের টারখাম সীমান্তে দেখা যায় বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের দীর্ঘ লাইন।
পাকিস্তান সরকার পহেলা এপ্রিল থেকে ফের শুরু করেছে অনিবন্ধিত আফগানদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া। কেবল গত সপ্তাহেই অন্তত ৭ হাজার ৭০০ আফগানকে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় খাইবার পাখতুনখোয়া সূত্র।
এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ১৫১টি পরিবার, যাদের অনেকের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কারও আবার ছিল ‘আফগান সিটিজেন কার্ড’। একসঙ্গে ফেরত পাঠানো হয়েছে ৩ হাজার ৮১ জন পুরুষ, এক হাজার ৯৮১ জন নারী এবং ২ হাজার ৬৪০ জন শিশু।
শুধু টারখাম সীমান্ত দিয়েই নয়, করাচি ও পাঞ্জাব থেকেও বড় আকারে চালানো হচ্ছে এই ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া। করাচি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে আরও ৩০০ জন, যার মধ্যে ৭৯ শিশু ও ৩৭ জন নারী ছিলেন।
এক ভুক্তভোগী বলেন, পাকিস্তানি পুলিশ রাতে আমাদের বাড়িতে হানা দেয়। আমার দুই ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়—তারা এখনো জেলে। আমি গিয়েছিলাম জেলে, বলেছিলাম, আমার ছেলেদের নিয়ে যেতে চাই। পুলিশ বলল, তুমি যাও, ওদের পরে ফেরত পাঠাব।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বন্দিশিবিরে পানি-খাবারের সংকট, পরিবার বিচ্ছিন্নতা ও হঠাৎ করে জিনিসপত্র বিক্রি করে আফগানিস্তানে ফেরা—সব মিলিয়ে নতুন করে শুরু করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেকে।
বিআলো/শিলি