আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয় : ডা. শফিকুর রহমান
নুরুল আমিন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।
কোনো দলের সরকার নয়, চাই ১৮ কোটি জনগণের সরকার। যে সরকার দেশের মালিক হবে না, সেবক হয়ে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই সরকার গঠন করতে চাই। তিনি আরও বলেন, যারা মাথা গরম করে কথা বলছেন, দয়া করে মাথা ঠাণ্ডা করুন। আপনাদের নোংরা কথা শোনার সময় আমাদের নেই।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি সরোয়ার কামাল আজিজী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিঙ্গাতুল্লাহ সিদকা, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’ এটা আমরা হতে দিতে পারি না। পরিবর্তনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। এই দেশে একজন রিকশাচালকও যোগ্যতা থাকলে এমপি-মন্ত্রী হতে পারবে। তিনি চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, চাঁদাবাজেরা বাজপাখির মতো সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
এতে কৃষক, পরিবহন মালিক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিএনপি এখন আর নেই। আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিও নেই।
এখন যা আছে তা চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিএনপি এরা ভাড়াটিয়া বিএনপি। তিনি বলেন, সবকিছু বুঝে-শুনেই ১১ দলীয় জোটে যোগ দিয়েছেন এবং জোটকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অটল থাকার দিকনির্দেশনা দেন।
যুব সমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তোমাদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে। নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, দেশ গড়ার জন্য তোমাদের সামনে আসতে হবে। তোমাদের নেতৃত্বেই আমাদের বিপ্লব সফল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২৪ যারা মানবে না, ২৬ সালে এসে আমরা তাদের লালকার্ড দেখাব। জনসভায় লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রবীণদের তুলনায় নবীনদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের মতে, এতে বোঝা যায় ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নবীনরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে তরুণদের শৃঙ্খলা। জানা গেছে, শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন।
আমিরাবাদ থেকে কেরানিহাট পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হয়নি। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, দলীয় প্রতীক তুলে ধরেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের বিজয়ী করে দেশ গঠনের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বিআলো/আমিনা



