আলোচনায় দিন-রাত মাঠে থাকা এসিল্যান্ড হিল্লোল চাকমা
মো. রাফিউ হাসান হামজা, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) : রাত তখন প্রায় মধ্যভাগ পেরিয়েছে। চারপাশে ঘন কুয়াশার চাদর, শীতের কামড়ে স্তব্ধ জনপদ। গ্রামবাংলার ফসলি জমিগুলো ঘুমিয়ে আছে নিঃশব্দে। ঠিক সেই নিস্তব্ধতার ভেতরেই ভেকুর শব্দ কৃষিজমির বুক চিরে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছিল। আর সেই আশঙ্কা ঠেকাতেই গভীর রাতে মাঠে নামলেন শাহরাস্তির সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ১১টা। শুরু হয় মোবাইল কোর্ট। শেষ হয় ভোর ৩টায়। সময়ের হিসেবে চার ঘণ্টা, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল কৃষিজমি রক্ষার এক নিরবচ্ছিন্ন লড়াই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেনের নির্দেশনায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে লক্ষ্য ছিল একটাই ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে কৃষি ফসলি জমির মাটি উত্তোলন বন্ধ করা। শীতের তীব্রতা, কুয়াশার ঘনত্ব কিংবা গভীর রাত কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি প্রশাসনের এই অভিযানে।
স্বেতি নারায়নপুর (চিতোষী পশ্চিম), পূর্ব পাথৈর ও ঘুঘুরচপ এই তিনটি এলাকা ঘিরেই ছিল অভিযানের মূল ফোকাস। স্বেতি নারায়নপুর ও পূর্ব পাথৈর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়—মাটি কাটার স্পষ্ট চিহ্ন, ক্ষতবিক্ষত জমি, ফসল উৎপাদনের ঝুঁকি। কিন্তু অভিযানের সময় কাউকে পাওয়া যায়নি। আইন প্রয়োগ সম্ভব না হলেও প্রশাসনের চোখ এড়ায়নি এই অপরাধের ছাপ। এসব এলাকা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনার ইঙ্গিতও দেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঘুঘুরচপ এলাকায় দৃশ্যপট বদলে যায়। এখানে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলনের সময় হাতেনাতে একজনকে শনাক্ত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯-এর ১৫ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও আদায় করা হয়। গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় এই জরিমানা যেন ছিল অবৈধ দখলদারদের জন্য স্পষ্ট বার্তা কৃষিজমি নিয়ে কোনো আপস নেই। এই অভিযান কেবল একটি আইনি কার্যক্রম নয়; এটি ছিল কৃষকের জমি, ফসল ও ভবিষ্যৎ রক্ষার এক মানবিক দায়িত্ব পালন।
দিন-রাত মাঠে থেকে কাজ করায় তরুণ এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এমন দায়িত্বশীল ও মাঠঘেঁষা প্রশাসন থাকলে কৃষিজমি রক্ষা সম্ভব। অভিযান চলাকালে শাহরাস্তি থানা পুলিশ ও উপজেলা আনসার সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন। প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষিজমি সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
বিআলো/আমিনা



