আলোচিত বুলেট হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাসহ ৩ আসামির যাবজ্জীবন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৯ বছর পর লালমনিরহাটের আলোচিত শ্রমিকলীগ নেতা ফখরুল ইসলাম বুলেট হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৩ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এসময় রায়ে মামলার ১১ আসামির মধ্যে একরামুল হক ও মিঠুসহ ৬ জনকে খালাস পেয়েছেন। আর বাকি দুই আসামির মৃত্যু হয়েছে।
গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আদিব আলী এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে খালাসপ্রাপ্ত ৩ আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরাসহ অন্য আসামিরা অনুপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজির চওড়া এলাকার হায়দার খানের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল খান, একই এলাকার ফজলে খানের ছেলে বিপুল খান ও গোলজার খানের ছেলে মসজিদুল।
জানা গেছে, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এলাকার এনামুল হকের ছেলে শ্রমিক লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম বুলেটের সঙ্গে ১নং আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল খানের সঙ্গে স্থানীয় হাটের ইজারা ও সরকারি সার গোডাউনে লোড আনলোড কমিশন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিলো। ওই বিরোধের জেরে ২০১৫ সালের ২৭ জুন রাতে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল খান শ্রমিকলীগ নেতা বুলেটকে মুঠোফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। পরে তাকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাজার সংলগ্ন বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে দা, চাপাতিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শ্রমিক লীগ নেতা বুলেটকে সদর হাসপাতলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত বুলেটের পিতা এনামুল হক সরকার বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল খানসহ ১১ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। লালমনিরহাট আদালতের সরকারি পিপি অ্যাডভোকেট আকমল হোসেন জানান, দীর্ঘ শুনানির পর বুধবার বিচারক আলোচিত এই বুলেট হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিআলো/তুরাগ