আশার আলো নিয়ে শুরু হলো ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬
বিআলো ডেস্ক: নতুন ক্যালেন্ডার বছরের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন আশা, আত্মসমালোচনা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে।
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ শুধু তারিখ পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে বিশ্লেষকেরা ২০২৬ সালকে মানবতা, প্রযুক্তি ও সচেতনতার সমন্বয়ে একটি নতুন দিগন্তের বছর হিসেবে দেখছেন।
ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছরের পুরোনো। প্রাচীন ব্যাবিলন সভ্যতা থেকে শুরু হয়ে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের প্রবর্তিত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার এবং পরবর্তীতে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে ১ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী নববর্ষ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে দিনটি পালিত হলেও মূল বার্তা একই- পুরোনোকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
২০২৬ সালের নববর্ষকে ঘিরে এবার বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন অঙ্গীকার এবং যুদ্ধক্লান্ত বিশ্বের শান্তির আকাঙ্ক্ষা। বাংলাদেশেও নববর্ষ উদযাপনে নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, রমনা বটমূল ও হাতিরঝিল এলাকায় তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও উদযাপন যেন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ডিজিটাল যুগের প্রভাবে নববর্ষ উদযাপনের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আতশবাজির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব লেজার শো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নতুন বছরের প্রত্যাশা তুলে ধরে অনেকের কণ্ঠে একটাই আহ্বান- ২০২৬ হোক যুদ্ধহীন, বৈষম্যহীন ও মানবিকতার বছর। রাজনীতি হোক সহনশীল, সমাজ হোক মাদকমুক্ত এবং রাষ্ট্র হোক ন্যায় ও সুবিচারের প্রতীক। নতুন বছর যেন ধ্বংস নয়, সৃষ্টির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।
বিআলো/শিলি



