একফসলি জমিতে সরিষা চাষে কৃষকের নতুন সম্ভাবনা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মুসলিমপুর গ্রামে সরিষার বাম্পার ফলনে বদলে গেছে কৃষকদের ভাগ্যচিত্র। প্রায় ৬০ একর একফসলি জমিতে সরিষা চাষ করে এবার ভালো ফলন পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মৌ মৌ গন্ধে আর হলুদ ফুলের নান্দনিকতায় পুরো এলাকা এখন প্রকৃতির এক অপূর্ব রূপে সেজেছে। মুসলিমপুর গ্রামের উত্তর প্রান্তে তাকালেই চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত। দিগন্তজোড়া হলুদ ফুলের সমাহার যেন এক প্রাকৃতিক গালিচা। সরিষার ফুলে ফুলে ভরে ওঠা মাঠ দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে। এলাকার কৃষকরা জানান, আগে রোপা আমনের পর জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত। এবার সেই একফসলি জমিকে সরিষা চাষের আওতায় এনে তারা স্বল্প পরিশ্রম ও কম খরচে ভালো ফলন পেয়েছেন। এতে একদিকে জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেনের অনুপ্রেরণা এবং সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল-আমিনের দিকনির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের নিয়মিত পরামর্শে কৃষকরা সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ হন। উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও সঠিক সময়ে পরিচর্যার ফলে এবার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন পাওয়া গেছে বলে জানান কৃষকরা। স্থানীয় কৃষক আবুবক্কর, চান মিয়া, জুনাইদ, ইব্রাহিম, ফিরোজ মিয়া ও আবুতাহের বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল-আমিন ভাইয়ের নানা পরামর্শে আমরা সরিষা চাষে আগ্রহী হই। স্বল্প খরচে ও কম শ্রমে পতিত জমি কাজে লাগিয়ে আমরা উপকৃত হয়েছি। আশা করছি, ভালো দাম পেয়ে আমাদের শ্রমের মর্যাদা পাবো। কৃষকরা আরও জানান, যারা তাদের মধ্যে চাষাবাদের আগ্রহ ও সাহস জুগিয়েছেন, সেই সব কৃষি কর্মকর্তাদের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে এলাকায় সরিষা চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। সরিষার এই বাম্পার ফলন শুধু মুসলিমপুর গ্রামের কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায়নি বরং একফসলি জমিতে বহুমুখী ফসল চাষের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে মুসলিমপুর সরিষা উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।
বিআলো/আমিনা



