• যোগাযোগ
  • অভিযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    এনআইআর বাস্তবায়নে ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইওবি 

     অনলাইন ডেক্স 
    06th Jan 2026 5:28 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা জোরদার, ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর) বাস্তবায়ন একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)।

    রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, এনআইআর কার্যকর হলে অবৈধ, নকল ও চোরাই মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, যা সরাসরি ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সংবাদ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— *“এনআইআর-এর হাত ধরে নিরাপদ বাংলাদেশ”*।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনআইআর ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব দেশের মোবাইল ফোন ইকোসিস্টেমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। একই সঙ্গে সরকার ১ জানুয়ারি থেকে স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্কছাড় দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত করবে এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করে এমআইওবি।

    এমআইওবি’র মতে, এই নীতিগত উদ্যোগগুলো মোবাইল ফোন শিল্পে দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমাতে সহায়ক হবে এবং একটি সুসংগঠিত বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এনআইআর চালুর ফলে অবৈধ আইএমইআই ব্যবহার বন্ধ হবে। এর মাধ্যমে ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে এটি বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে, যা জাতীয় রাজস্ব আদায় এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সংগঠনটির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাতে সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিক কাজ করছেন এবং ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, সার্ভিসিং ও খুচরা বিক্রয়সহ পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

    এছাড়া এই শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর, ভ্যাট ও ইউটিলিটি বিল আদায় করছে বলে জানায় এমআইওবি।

    তবে সংগঠনটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এনআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ী সহিংস ও বিশৃঙ্খল কার্যক্রমে জড়িয়েছে। এমআইওবি’র দাবি, দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার ব্যবসায়ী স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্কছাড়ের দাবি মেনে নেওয়ার পরও অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে ভাঙচুর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি, শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া। এতে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

    এমআইওবি আরও জানায়, এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড শুধু বাজারে বিশৃঙ্খলাই সৃষ্টি করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে স্মার্টফোন শিল্পে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সংগঠনটির মতে, যেকোনো দাবি-দাওয়া শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে উত্থাপন করা উচিত। বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

    এ প্রসঙ্গে এমআইওবি’র সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন,
    “এনআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই।”

    তিনি আরও বলেন, “এনআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”

    বিআলো/ইমরান

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    M T W T F S S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031