এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইওবি
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে এমআইওবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনইআইআর ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সুফল, ভোক্তা সুবিধা এবং মোবাইল ফোন শিল্পে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকার চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত করতে স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এমআইওবি’র মতে, এই নীতিগত পদক্ষেপ মোবাইল ফোন শিল্পে দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, এনইআইআর কার্যকর হওয়ার ফলে অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন সহজেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একই সঙ্গে বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধি ও ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।
এমআইওবি’র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাতে সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস সেন্টার ও খুচরা বিক্রয়সহ পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে এই শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল পাচ্ছে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এমআইওবি জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ীর সহিংস ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংগঠনটির দাবি, দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার অবৈধ ব্যবসায়ী সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সহিংস কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে।
এমআইওবি জানায়, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বহিরাগতদের এনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে ভাঙচুর, শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে, যার ফলে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড শুধু জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল স্মার্টফোন শিল্পে এই অস্থিরতা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এতে চলমান ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আগ্রহও কমে যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন,
“এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বিআলো/তুরাগ



