কনকনে শীতে কাঁপছে দেশ, ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন
বিআলো ডেস্ক: পৌষের শেষ দিকে এসে উত্তরাঞ্চল থেকে ছড়িয়ে পড়া হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে সারা দেশে তীব্র শীতের দাপট বিরাজ করছে। এতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাবে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত। শীতবস্ত্রের অভাবে খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়ক, নৌপথ ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে দুপুর অবধি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুরের পরও স্থায়ী হতে পারে। এতে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় পরিবহন খাতে অসুবিধা বাড়বে, বিশেষ করে নদী অববাহিকা এলাকায়।
রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১১, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১.৩, কুমিল্লা ও যশোরে ১১.৫, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১১.৮, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও নীলফামারীর ডিমলায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা জানান, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আগামী দিনগুলোতে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমতে পারে, ফলে কুয়াশা আরও ঘন হবে এবং শীতের প্রকোপ বাড়বে।
ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শীত আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জানুয়ারিতে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রির নিচে নেমে যেতে পারে, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বয়স্ক ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
সোমবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে এটি দুপুর পর্যন্ত চলতে পারে। এতে উড়োজাহাজ, নৌযান ও সড়ক যান চলাচলে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
নতুন বছরের শুরুতে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে ঘন কুয়াশায় চলাচলের সময় হেডলাইট ব্যবহার করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতে অসহায় মানুষ ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীতের প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে, কখনো স্বল্পস্থায়ী তীব্র ঠান্ডা, কখনো দীর্ঘ কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া। তাই শীত মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
বিআলো/শিলি



