কয়রা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
মুশফিকুর রহমান, খুলনা: খুলনার কয়রা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে জমির মালিকানা সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বামিয়া মৌজার ৫ দশমিক ৯৪ একর জমির ভোগদখল সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় কয়রা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলার কাটনিয়া গ্রামের আতিয়ার সানা লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বামিয়া মৌজার উক্ত ৫ দশমিক ৯৪ একর জমির মধ্যে ৫ দশমিক ৬১ একর জমি তিনি ও তার আরও পাঁচ ভাইবোন ২০০৫ সাল থেকে ভূমি অফিসের মাধ্যমে ইজারা নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। চলতি বছর আমন ধান রোপণ মৌসুমে উপজেলার ঘুগরাকাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ সানার মেয়ে রাবেয়া খাতুন দলবল নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালান, তবে তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে প্রতি বছরের মতো এবারও তারা জমিতে চাষাবাদ শেষে ধান রোপণ করেন।
ধান কাটার মৌসুমে রাবেয়া খাতুন পুনরায় দলবল নিয়ে এসে তাদের চাষ করা ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় কয়রা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ধান কাটতে ব্যর্থ হয়ে পরে রাবেয়া খাতুন বাদী হয়ে নির্বাহী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করেন। শুনানি শেষে আদালত জমির ধান কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত ভোগদখলদার নির্ধারণে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সার্ভেয়ার বাবুল আকতার এক পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গত ২১ জানুয়ারি আদালতে একপাক্ষিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আতিয়ার সানা আরও বলেন, “সরকারি ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি ইজারা নিয়ে নিয়মিত রাজস্ব পরিশোধ করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি। অথচ রাবেয়া খাতুন বা তার পরিবারের কারও নামে এই জমির কোনো ইজারা নেই। তিনি কখনোই এই জমির স্বত্বভোগী বা দখলদার ছিলেন না।”
তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং সেই মহলের প্রভাবেই ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আকতার বলেন,
“আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন তদন্তে গিয়ে ধান চাষ সংক্রান্ত বিষয়ে যা তথ্য পাওয়া গেছে, সেভাবেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।”
বিআলো/ইমরান



