কার্ডিফে বাংলাদেশের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন
জিসান আহমেদ, যুক্তরাজ্য: কার্ডিফে বাংলাদেশের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপন করা হয়েছে। গত সোমবার যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে অবস্থিত বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সেন্টারে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাল্টিকালচারাল ও মাল্টিন্যাশনালের দেশ যুক্তরাজ্যের মাটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে বিজয়ের এই আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর ও আবেগঘন।
বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান শহীদুল্লাহ্-এর সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি ও কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর-এর পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্ডিফ কাউন্টি কাউন্সিলের সাবেক লর্ড মেয়র কাউন্সিলার ড. বাবলিন মল্লিক, প্রাক্তন ডেপুটি লর্ড মেয়র কাউন্সিলার দিলওয়ার আলী, কাউন্সিলার জেসমিন চৌধুরীসহ বিশিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ট্রেজারার শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার, কমিউনিটি সংগঠক আব্দুল মালিক, গোলাম মর্তুজা, ফয়ছল রহমান, বদর উদ্দিন চৌধুরী বাবর, আলহাজ্ব আনকার মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মুজিব মিয়া, রায়হান আহমেদ, নজির উদ্দিন, আনসার মিয়া, দেওয়ান টুটুল চৌধুরী, আলমগীর আলম, শাহিদুল ইসলাম, বদরুল হক মনসুর, সাজেল আহমেদ, সেবুল আলী আব্দুর রহমান, সাংবাদিক আতিকুল ইসলাম ও সৈয়দ রুহেল।
মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বীর সন্তানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা শাহ মোহাম্মদ তসলিম। দোয়া শেষে উপস্থিত সবাই একাত্তরের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ মকিস মনসুর তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মাহুতি ও দুই লক্ষ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করেছে। লাল-সবুজের পতাকা অর্জনের এই ইতিহাস বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের সর্বোচ্চ অধ্যায়।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা অপচেষ্টা চলছে, যা স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগজনক। তাই দেশে ও প্রবাসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একাত্তরের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান শহীদুল্লাহ্ বলেন, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস হলেও এটি শোকের মাসও বটে। এ মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের দোসরদের সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে জাতিকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তবুও এই ডিসেম্বরেই লাল-সবুজের পতাকা, নিজস্ব মানচিত্র ও জাতিসত্তার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে। এই বিজয় আমাদের অহংকার। বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও প্রবাসী কমিউনিটির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা পর্বে অন্যান্য বক্তারা ‘৭১-কে বাঙালি জাতির গৌরব, আত্মত্যাগ ও অদম্য সাহসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা ও লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি, প্রবাসের মাটিতে আমরা প্রত্যেকেই সেই পতাকার বাহক ও বাংলাদেশের একেকজন রাষ্ট্রদূত।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের গৌরবগাঁথা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
বিআলো/তুরাগ



