• যোগাযোগ
  • অভিযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    কিডনি সিস্টের প্রতিকার ও প্রতিরোধ 

     dailybangla 
    12th Jan 2026 11:57 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    ডা. রাইসুর আক্তার

    কিডনি সিস্ট হলো কিডনির ভেতরে বা ওপর তরলভর্তি থলি। অনেক সময় এটি ক্ষতিকর না হলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা, সংক্রমণ বা কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। সিস্টের ধরন, আকার ও জটিলতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিকার ও চিকিৎসা নির্ধারিত হয়।


    প্রতিকার

    কিডনি সিস্টের প্রতিকার নির্ভর করে সিস্টের প্রকার ও অবস্থার ওপর। সাধারণ প্রতিকারগুলো হলো—

    ১. পর্যাপ্ত পানি পান
    শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা কিডনির কার্যকারিতা ভালো রাখে এবং সিস্টের জটিলতা কমাতে সহায়তা করে।

    ২. NSAIDs এড়িয়ে চলুন
    আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক কিডনির ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ সেবন করবেন না।

    ৩. তাপ প্রয়োগ
    পিঠে বা পেটে ব্যথা হলে গরম সেঁক দিলে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়।

    ৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
    কম লবণ, কম প্রোটিন ও কম ফসফরাসযুক্ত খাবার খান। পালং শাক, কলা, কামরাঙ্গা ও অতিরিক্ত ডাল জাতীয় খাবার সীমিত রাখুন।

    ৫. আদা ও হলুদ
    আদা ও হলুদ প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ৬. ব্যথা বা সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা
    তীব্র ব্যথা, জ্বর বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

    ৭. প্রস্রাবের পথে বাধা সৃষ্টি হলে চিকিৎসা জরুরি
    সিস্ট যদি কিডনির স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বা প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা দেয়, তবে চিকিৎসা প্রয়োজন।

    ৮. জটিল বা ক্যান্সারের ঝুঁকিযুক্ত সিস্ট
    কিছু সিস্ট জটিল হয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দরকার।

    ৯. ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি
    সিস্ট খুব বড় হলে বা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।

    ১০. সিস্ট ড্রেনেজ (Sclerotherapy)
    সিস্ট বড় হয়ে ব্যথা সৃষ্টি করলে সূঁচের মাধ্যমে তরল বের করে সেখানে বিশেষ দ্রবণ দেওয়া হয়, যাতে আবার বড় না হয়।


    প্রতিরোধ

    কিডনি সিস্ট পুরোপুরি প্রতিরোধ করা কঠিন হলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ঝুঁকি অনেক কমানো যায়।

    ১. পর্যাপ্ত পানি পান
    প্রতিদিন যথেষ্ট পানি পান করে শরীরের টক্সিন বের করে দিন।

    ২. লবণ নিয়ন্ত্রণ
    অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়ায়, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর।

    ৩. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
    ফল, সবজি, গোটা শস্য ও লিন প্রোটিন খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

    ৪. নিয়মিত ব্যায়াম
    প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

    ৫. ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ
    এই অভ্যাসগুলো কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে।

    ৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
    উচ্চ রক্তচাপ কিডনির বড় শত্রু—নিয়মিত পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    ৭. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
    রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখুন।

    ৮. ওজন নিয়ন্ত্রণ
    অতিরিক্ত ওজন কিডনি সিস্টের ঝুঁকি বাড়ায়।

    ৯. অযথা ওষুধ সেবন এড়িয়ে চলুন
    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি ওষুধ খাবেন না।

    ১০. মানসিক চাপ কমান
    মানসিক চাপ কমালে শরীর ও কিডনি দুটোই সুস্থ থাকে।


    লেখক:
    ডা. রাইসুর আক্তার
    সিনিয়র কনসালটেন্ট ও রিসার্চার
    ৪৭–৪৮ নং দোকান, হাকিম টাওয়ার, মধ্য বাড্ডা বাস স্ট্যান্ড, ঢাকা।
    হটলাইন: ০১৭১৯৪৫৬৩৯৮

    বিআলো/ইমরান

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    M T W T F S S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031