কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: তদন্তে কলাবাগান থানার ওসি নির্দোষ প্রমাণিত
নিজস্ব প্রতিবদক: কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তদন্তে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ধানমন্ডি জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার জিসানুল হকের সই করা তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এরই মধ্যে প্রতিবেদনটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযানে টিম ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল উদ্দিনের অপেশাদার আচরণ এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, কলাবাগানের বাসিন্দা আবদুল ওয়াদুদের বাসায় বহিরাগতদের নিয়ে গিয়ে একটি ‘মব’ তৈরি করে পুলিশি অভিযান চালানো হয় এবং তা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন এসআই বেলাল।
গত ৫ মে কলাবাগান থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান, এসআই বেলাল উদ্দিন ও মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার আগে আবদুল ওয়াদুদ নামের এক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে থানায় না নেওয়ার শর্তে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দেন-দরবারের পর ২ লাখ টাকা দিলে তাকে কিছু সময়ের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাকি অর্থ পরিশোধের শর্তে তিনজন সিভিল পোশাকে থাকা ডিবি পরিচয়ধারী ব্যক্তিকে তার বাসায় পাহারায় রাখা হয়। অভিযানের সময় কোনো মামলার কাগজপত্র দেখানো হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ওয়াদুদ জানান, অভিযানের সময় তার বাসায় থাকা বৈধ বিদেশি পাখি—ম্যাকাও, কাকাতুয়া, রেইনবো লরি লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। আতঙ্কে তার পরিচালিত মিনি চিড়িয়াখানার একটি গর্ভবতী হরিণ মারা যায়। এছাড়াও, তার বাসা থেকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে সাবেক ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। সেদিন রাত ছিল বলে আমি বাসায় অবস্থান করছিলাম। তবে অভিযোগকারী কেন আমার নাম দিলেন, তা বুঝতে পারছি না। আশা করি, ন্যায়বিচার পাব।”
তদন্ত কর্মকর্তা জিসানুল হক বলেন, “এ ঘটনায় নিরপরাধ কোনো পুলিশ সদস্য যেন ভুক্তভোগী না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।”
বিআলো/সবুজ