খাগড়াছড়ি-২৯৮ সংসদীয় আসন, ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা মাঠ জরিপে এগিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী ওয়াদুদ ওয়াদুদ ভূইয়া
নূর মোহাম্মদ, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং সংসদীয় আসন নয়টি উপজেলা ৩ পৌরসভা নিয়ে গঠিত একটি আসন। এই জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪১১৪ জন। যার মধ্য পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ২০৬ জন,নারী ভোটার ২ লাখ ৭৩৯০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।
ভৌগলিকভাবে পার্বত্য অঞ্চল খাগড়াছড়ি আসনটি পাহাড়ি বাঙালি সহ ১৩ টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাসে খুবই গুরুত্ব বহন করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখ্য, এই আসনের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে যার নাম তৃণমূল পর্যায় থেকে সর্বমহলে আলোচনায় আছে তিনি হচ্ছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, সাবেক ২ বারের এমপি ও চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং সভাপতি, জেলা বিএনপি, খাগড়াছড়ি।
২৯৮ নং আসনটি ভোটের মাঠে ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারপরেও ভোটের হাওয়া বইছে পাহাড়ে বসবাসরত সকল জাতি গোষ্ঠীর মাঝে। বিগত সরকারের আমলে তিনটি নির্বাচনে যথা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর আমি ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন থেকে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও উল্লেখযোগ্য চারজন প্রার্থীকে আলোচনায় রাখছে সাধারণ ভোটাররা।
এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মিথিলা রোয়াজা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অ্যাড. ইয়াকুব আলী, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে সমীরণ দেওয়ান, ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে লড়ছেন দিঘীনালা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ধর্মজ্যোতি চাকমা। বাকি ৭ প্রার্থীরা ভোটের মাঠে নিরুত্তাপ, ভোটের লড়াইয়ে জনমনে নেই কোন আলোচনা।
তবে ভোট বাজারে সরগরম চার প্রার্থীর মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ঘোড়া প্রতীক স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমার। যদিও আঞ্চলিক সংগঠন ইউ পিডিএফ সমর্থন ঘোড়ার দিকে রয়েছে মর্মে জানা যায়। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানকে পার্বত্য জনসংহতি সমিতির সমর্থন কথা শোনা যাচ্ছে। তাই ভোটের মাঠে ত্রিমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সেই অর্থে এই পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় সকল সম্প্রদায়ের জন্য রাজনৈতিক মাঠে নিরলসভাবে কাজ করা অসাম্প্রদায়িক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া-ই ভোটের মাঠে এককভাবে এগিয়ে আছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহিরে থেকেও শত প্রতিকূলতার মাঝেও জেলার সর্বসাধারণের সুখ দুখে পাশে থেকেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে তার আমলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল পেয়েছে এ জেলাবাসী।
পার্বত্য চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি আসনটি জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ভোটের মাঠে সরব উপস্থিতি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নিরব সমর্থন বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। পাহাড়ে বসবাসরত সকল উপজাতি গোষ্ঠীরদ্বয়ের উপর চরম আধিপত্য, অস্ত্র ও পেশী শক্তির প্রভাব আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন যেকোনো প্রার্থীকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। বিশেষ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) অন্যতম।
এছাড়া আরো দুটি সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) জেএসএস (সংস্কার) প্রভাবও বিদ্যমান। তবে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণধিকার পরিষদসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মাঝে রয়েছে গভীর উদ্বেগ। জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৬৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। প্রার্থীরা দুর্গম কেন্দ্রে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়।
সার্বিকভাবে, উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও শান্তির ধারাবাহিকতা এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। ভোটারদের স্বাধীন ইচ্ছা ও নিরপেক্ষ পরিবেশের ওপরই নির্ভর করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফল। তবে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নীরব সমর্থন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করা যাবে না। খাগড়াছড়ি জনপদে শান্তি সম্প্রীতি উন্নয়ন ও সহাবস্থান এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বিআলো/আমিনা



