খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফেনীজুড়ে শোকের মাতম, পৈতৃক বাড়িতে কোরআন খতম
আবুল হাসনাত তুহিন, ফেনী: ‘ফেনীর মেয়ে খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা’—এই স্লোগানেই চার দশকের বেশি সময় ধরে ফেনীর রাজনীতিতে গর্ব ও আবেগের প্রতীক হয়ে ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তাঁর মৃত্যুর খবরে সেই গর্ব রূপ নেয় গভীর শোকে। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ফেনীর জনপদ, নেমে আসে শোকের ছায়া।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর মসজিদে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হলে শোকাহত হয়ে পড়েন গ্রামের স্বজন, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আজ সকালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে পরিবারের উদ্যোগে পবিত্র কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। বাড়ির সামনে পতাকাস্ট্যান্ডে উত্তোলন করা হয় কালো পতাকা। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই জেলা ও উপজেলার বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন।
খালেদা জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদারসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্মৃতিচারণ করেন। শামীম মজুমদার, যিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, বলেন—
“বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও মানুষের কাছের নেত্রী। প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা অবস্থায়ও তিনি বহুবার এই বাড়িতে এসেছেন। বাড়ির পুকুরঘাটের পাশে তিনি যে নিমগাছটি রোপণ করেছিলেন, সেটি এখনো সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে এলে তিনি সরকারি প্রটোকল ভেঙে নেতা-কর্মী ও পরিবারের সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করতেন।”
এদিকে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, “দেশনেত্রীর মৃত্যুতে আমরা আজ সত্যিই এতিম হয়ে গেলাম। এতদিন গর্ব করে বলতাম—ফেনীর মেয়ে খালেদা। আজ থেকে তিনি আর আমাদের মাঝে নেই—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া খুব কষ্টের।”
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ফেনীবাসীর গর্বের প্রতীক। ফেনী-১ আসন থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং এখান থেকেই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।”
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী এবং দুবার বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিবারই বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারও তাঁর পক্ষে ফেনীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল।
বিআলো/তুরাগ



